সোনামসজিদ বন্দর পথে টানা ১০ দিন বন্ধ ভারতীয় পাথর আমদানী
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে টানা ১০দিন বন্ধ রয়েছে ভারত থেকে পাথর আমদানি। বন্দর সংশ্লিস্ট সূত্রগুলো জানায়,দেশে পাথর আমদানির বৃহত্তম এই বন্দর দিয়ে গত ১ মে থেকে আমদানী বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে দেশের প্রায় সকল মেগা উন্নয়ন প্রকল্প সহ সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে। দেশি বাজারে পাথরের দাম বেড়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরে কর্মরত হাজার হাজার পাথর সংশ্লিস্ট শ্রমিক কর্মচারী। বসে থাকতে হচ্ছে পাথর পরিবহনে জড়িত শত শত ট্রাককে। অপরদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে।
সোনামসজিদ আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক এবং পাথর আমদানীকার আরিফ উদ্দিন ইতি বলেন, নির্মাণ কাজের জন্য বাংলাদেশে ভারত থেকে বিভিন্ন সাইজের যে কালো পাথর আমদানী করা হয় তা মূলত: ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের পাকুর এলাকা থেকে আসে। পশ্চিমবঙ্গের সোনামসজিদ,বেনাপোল,ভোমরা,হিলি এইসব বন্দর দিয়ে পাকুরের পাথরের ট্রাক বাংলাদেশে ঢোকে। ২০১৪ সালে কলকাতায় দুদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, পশ্চিমবঙ্গের সকল বন্দর দিয়ে পাথর টন প্রতি ১৩ ডলার মূল্যে বাংলাদেশে রপ্তানী করা হবে। এতদিন সেভাবেই চলছিল। কিন্তু ১ মে থেকে আচমকা সোনামসজিদের বিপরীতে মোহদিপুর বন্দর পথে পাথর রপ্তানী বন্ধ করে দেয় ভারতীয়রা। তাঁদের দাবি এই পথে ১৫ ডলারে পাথর রপ্তানী করা হবে। এই মূল্যের ব্যাপারে আগেও কয়েকবার কথা উঠলেও সেটি নিয়ে আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয় নি।
আরিফ উদ্দিন বলেন, পাকুর থেকে সোনামসজিদের দূরত্ব পশ্চিমবঙ্গের বন্দরগুলোর মধ্যে সবথেকে কম। ফলে এই পথে আমদানীতে পরিবহন খরচ ও সময় কমের কারণে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেশী। এখন হঠাৎ আমদানী বন্ধ হওয়ায় বড় ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। কোন আলোচনা ছাড়াই গত ১২ এপ্রিল মোহদিপুর কাস্টমস সুপার এক পত্রে ভারতীয় রপ্তানীকারক ও সিএন্ডএফদের জানান যে, ১৫ এপ্রিলের পর ১৫ ডলারের নীচে খোলা কোন এলসি গ্রহণযোগ্য হবে না। অথচ এর আগেই বাংলাদেশী বহু ব্যবসায়ী ১৩ ডলারে এলসি খুলেছেন। এখন সেই এলসিগুলো সংশোধন করে ১৫ ডলার না করলে তা কার্যকর হচ্ছে না। তবে পশ্চিমবঙ্গের সাথে দেশের অন্য বন্দরগুলোতে এখনও ১৩ ডলারেই পাথর আসছে।
আরিফ উদ্দিন আরও বলেন, ১৫ ডলারে আমদানী হলে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে। দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা ভারতে চলে যাবারও সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের নিকট সমস্যা সমাধানের জন্য গত শনিবার(৯মে) আবেদন করা হয়েছে। তিনি সোমবার(১১মে) এ ব্যাপারে সোনামসজিদ আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রুপের ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাথে বসবেন। এখন কিছু মূল্য বাড়াতে হলেও সেটা সকল বন্দওে ও আলোচনা করে বাড়াতে হবে। সম্পাদক আরিফ আরও বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৩০০/৩৫০টি পাথরবাহী গাড়ী বাংলাদেশে ঢোকে। টন প্রতি পাথরে সবমিলিয়ে সরকার প্রায় দেড় হাজার টাকা রাজস্ব পায়। যা দিনে গড়ে প্রায় ২ কোটি টাকা। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সরকার পাথরের রাজস্ব হারাচ্ছে।
সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী বেসরকারী অপরেটর প্রতিষ্ঠান পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড অপারেশেন ম্যানেজার কামাল খান বলেন, গত ১ মে থেকে পাথর আমদানী সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এই বন্ধের ব্যাপারে কোন পক্ষের কোন চিঠি পাওয়া যায় নি। তবে ১ মে’র পূর্বে বন্ধ হতে পারে এমন শোনা গেছে। গত ৩০ এপ্রিল সর্বশেষ ৩৪০ ট্রাক পাথর আমদানী হয়। গড়ে বন্দরে দিনে ২ থেকে আড়াইশ ট্রাক পাথর প্রবেশ করে।
শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, পাথর আসছে না বিষয়টি জানা গেছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তবে কোন পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায় নি। বিষয়টি দু’দেশের সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বলেও জানান তিনি।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মোহদিপুর রুটে ১৫ ডলারে আসেসমেন্ট করা হলে বাংলাদেশী ব্যাবসায়ীদের সবদিকে ক্ষতি হবে। আর এটি অযৌক্তিক।