বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে এবার মুখ খুললেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ লুকাননি তিনি। একই সঙ্গে দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন এই অলরাউন্ডার। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) গলে গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলছেন মিরাজ। সেখানেই ভারতীয় গণমাধ্যম রেভস্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্রিকেট, ভারত সফর, বিশ্বকাপ, তামিম ইকবালের নেতৃত্ব এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
প্রশ্ন: ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সীমিত ওভারের সিরিজ নিয়ে আপনারা কতটা রোমাঞ্চিত?
মিরাজ: আমরা সিরিজটি নিয়ে ভীষণ রোমাঞ্চিত। ভারত যদি বাংলাদেশ সফরে আসে, তবে তা আমাদের দেশের জন্য একটি দারুণ উপলক্ষ হবে। কারণ অনেক দিন পর তাদের বিপক্ষে আমাদের খেলা হচ্ছে। ভারত অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল এবং আমরা সামনের চ্যালেঞ্জটা ভালোভাবেই জানি। ঘরের কন্ডিশনে ভালো খেলাতেই আমাদের মূল ফোকাস থাকবে এবং আমরা এই লড়াইয়ের জন্য মুখিয়ে আছি।
প্রশ্ন: আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল ভারতে পাঠানো উচিত ছিল?
মিরাজ: আমার মনে হয় এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় ছিল। এর বাইরে এ নিয়ে আমার আর বলার কিছু নেই।
প্রশ্ন: কিন্তু বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা তো একটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো। এতে কি আপনারা হতাশ?
মিরাজ: প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে খেলার। আমাদের দলের অনেক তরুণ খেলোয়াড়ও সেই সুযোগটি চেয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, রাজনৈতিক নানা বিষয়ের কারণে এটি ঘটেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সবাই জানে।
প্রশ্ন: আপনি কি ভারতে গিয়ে খেলতে ইচ্ছুক ছিলেন, যেহেতু সেখানে আপনার খেলার পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে?
মিরাজ: হ্যাঁ, সবাই ভারতে গিয়ে খেলতে চায়।
মিরাজ: ওই মুহূর্তটি আমার জন্য ভীষণ বিশেষ ছিল। আমাদের দলের ছয় উইকেট পতনের পর আমি ও রিয়াদ ভাই গুরুত্বপূর্ণ একটি জুটি গড়েছিলাম। ওই সময়ে আমি খুব বেশি কিছু ভাবছিলাম না। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল পজিটিভ থাকা, পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলা এবং প্রতি বল ধরে খেলা। আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং ম্যাচটি দারুণ এক স্মৃতিতে পরিণত হয়েছিল। ওই মুহূর্ত আমি কখনো ভুলব না।
মিরাজ: তামিম ভাই দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য কাজ করে আসছেন। বোর্ডকে নেতৃত্ব দিতে এটি তার জন্য একটি দারুণ সুযোগ বলে আমি মনে করি। আমার প্রত্যাশা, তিনি আরও শক্তিশালী দল গঠনে ভূমিকা রাখবেন, দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর উন্নয়ন করবেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তিনি কী করেন, সেটি দেখার অপেক্ষায় আছি।