চলমান বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের মাঝেই ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে নেইমার জুনিয়রের চোট। চোটের বর্তমান অবস্থা ব্রাজিলের এই পোস্টার বয়কে চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। ডান পায়ের কাফ মাসলের 'গ্রেড টু' ইনজুরির সর্বশেষ অবস্থা জানতে সোমবার সকালে নেইমারের নতুন মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার পর তাকে জিমে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে দেখা গেলেও দলের মূল অনুশীলনে এখনো ফিরতে পারেননি তিনি।
এই ইনজুরির সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৭ মে, ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগ ব্রাসিলেইরাও-এর একটি ম্যাচে। কাকতালীয়ভাবে, এর ঠিক একদিন পরেই বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেন সেলেসাওদের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। চোট থাকা সত্ত্বেও নেইমারকে স্কোয়াডে রাখার জুয়া খেলেছিলেন আনচেলত্তি, আশা ছিল টুর্নামেন্ট চলাকালীন তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তবে সেই আশার গুড়ে বালি, এখন পর্যন্ত কোচের অধীনে দলের কোনো সম্মিলিত অনুশীলনেই অংশ নিতে পারেননি বার্সেলোনা ও পিএসজির এই সাবেক তারকা।
এরই মধ্যে বিশ্বকাপের আগের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ এবং মরক্কোর বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচটি মিস করেছেন নেইমার। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া সেই ম্যাচে কেবল সাইডবেঞ্চে বসেই সতীর্থদের খেলা দেখতে হয়েছে তাকে। ম্যাচটির আগে কোচ আনচেলত্তি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে চলতি সপ্তাহেই হয়তো দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবেন নেইমার। তবে সোমবারের অনুশীলনে তার অনুপস্থিতি সেই আশাকে ফিকে করে দিয়েছে। ফলে আগামী শুক্রবার ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচেও তার মাঠে নামা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের ক্যারিয়ারে চোটের মিছিল যেন থামছেই না। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ-হাঁটুর এসিএল এবং মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর কোনো অফিসিয়াল ম্যাচ খেলেননি তিনি। বর্তমানে সান্তোসে খেলা এই তারকার মাঠে ফেরার অপেক্ষা দিন দিন কেবল দীর্ঘই হচ্ছে। পুরো ব্রাজিল দল এবং কোচ আনচেলত্তি যখন অধীর আগ্রহে তার সুস্থতার সুসংবাদের অপেক্ষায়, তখন বিশ্বজুড়ে সেলেসাও ভক্তদের মনে একটাই বড় প্রশ্ন, এই বিশ্বকাপে আদৌ কি আর মাঠে নামতে পারবেন নেইমার, নাকি সাইডবেঞ্চে বসেই শেষ হয়ে যাবে তার আরেকটি বিশ্বকাপ মিশন?