শুক্রবার ০৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৯ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: June 05, 2026
June 05, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

এবার লোকসভাতেও ভাঙতে চলেছে মমতার দল

Published: June 05, 2026 at 12:13 PM
এবার লোকসভাতেও ভাঙতে চলেছে মমতার দল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের চটিতে পা গলিয়ে ৬০ জন তৃণমূল বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী। বিধানসভার অভ্যন্তরে গড়েছেন নতুন পরিষদীয় দল ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেস।’ এবার একই চিত্র দেখা যেতে পারে লোকসভাতেও। তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদারও অনেক আগেই বেসুরো হয়েছেন। লোকসভার চিফ হুইপ পদ থেকে তাকে সরিয়ে সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই দলের সব পদ ছেড়েছেন কাকলি। এক পা বাড়িয়ে রয়েছেন বিজেপির দিকে। তবে নারদা ঘুষ কেলেঙ্কারির জেরে বিজেপি তাকে না নিলে তিনি হতে পারেন লোকসভার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘নতুন তৃণমূল’ কংগ্রেসের অন্যতম বড় মুখ। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ফের একটি অর্থপূর্ণ পোস্ট করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও তার নেতৃত্বে চলা শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে তীর্যক মন্তব্য করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট লেখেন, “আপনি কী মনে করেন একটি রাজনৈতিক পরিবারের ৪ বারের সংসদ সদস্য, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে ৪ দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তিনি নিজের স্বার্থের কথা ভাবেন? এটা আসলে নীতির বিরুদ্ধে এবং শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার বিরুদ্ধে দেওয়া একটি রায়। রাজ্যসভার আরেক সংসদ সদস্য সুখেন্দুশেখর রায় রীতিমত প্রকাশ্যেই বলেছেন, “এত দ্রুত যে বিধানসভাতে ৬০ জন বিধায়ক চলে যাবেন, এটা আমি কখনো দেখিনি। আমি যেটা বলছি, লোকসভাতেও একই প্রতিক্রিয়া হতে চলেছে। আমাকে এমন কিছু লোকসভার সদস্য, আমার কলিগ বলেছেন যে তারা প্রস্তুত। তাতে আমার মনে হচ্ছে, এটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটতে চলেছে লোকসভাতে। প্রশ্ন এখন,লোকসভা ও রাজ্যসভার ৪২ জন তৃণমূল সংসদ সদস্যের মধ্যে কতজন দল ছাড়তে পারেন। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের ২৯ জন সদস্য রয়েছেন, যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় দলের নেতা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংসদ সদস্য সম্ভবত ২০ জন বা তারও বেশি বিদ্রোহী শিবিরের পাশে দাঁড়ান, তাহলে সংসদীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরদার হতে পারে। সব হিসাব কার্যত মিলিয়ে দিয়ে ২০ জন তৃণমূল সংসদ সদস্য পা বাড়িয়ে রেখেছেন। তারা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলছেন।


কট্টর মমতাপন্থী হিসেবে পরিচিত কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলছেন? 

কল্যাণ বলেছেন, “এখন কোনো কিছুই বুঝতে পারছি না। সব হিসেব গুলিয়ে গেছে। যতক্ষণ যা না হবে, ততক্ষণ কিছু বলতে পারব না।বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের একজোট হওয়ার পরে একেবারে দ্বিখণ্ডিত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবারে এই ‘ভাল তৃণমূল’-এর দলীয় মান্যতা পেতে প্রয়োজন সংসদ সদস্যের সমর্থনও। সেক্ষেত্রে, নিজেদের তৃণমূলের দলীয় চিহ্নেরও দাবিদার হিসাবে দাবি করতে পারেন তাঁরা। বিধানসভায় সফলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়ী বিধায়ককে নিজেদের দিকে টানার পরে ঋতব্রত-সন্দীপনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তৃণমূল সংসদ সদস্যদের সমর্থন নিজেদের দিকে টানা। কারণ, দলের নাম তথা প্রতীকের উপরে অধিকার বজায় রাখতে হলে বিধায়কদের পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সমর্থনও তাদের জরুরি। সেক্ষেত্রে, আবারো বড় ধরনের ফাটলের মুখোমুখি হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল।