বাংলা ব্যান্ডসংগীতের ইতিহাসে কিছু নাম শুধু শিল্পী হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে একটি সময়ের প্রতীক। আজম খান তেমনই একজন। মৃত্যুর ১৫ বছর পরও তার গান, জীবনদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে সমানভাবে আলোচিত। ৫ জুন পপগুরু আজম খানের ১৫ তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি চ্যানেল আই প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ট্রিবিউট টু আজম খান’। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রচারিতব্য এই আয়োজনে তুলে ধরা হবে কিংবদন্তি এই শিল্পীর সংগীতজীবন, সংগ্রাম, শিল্পভাবনা এবং তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার। আজম খানের মৃত্যুর দেড় দশক পরও তার প্রাসঙ্গিকতার অন্যতম কারণ বাংলা ব্যান্ডসংগীতের ভিত নির্মাণে তার ভূমিকা। যে সময়ে ব্যান্ডসংগীতকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখতেন, এমনকি ‘অপসংস্কৃতি’ বলেও সমালোচনা করতেন, সেই সময় সাহসের সঙ্গে বাংলা ভাষায় রক, পপ ও লোকজ সংগীতের মিশেলে নতুন এক ধারার সূচনা করেছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের তরুণ সমাজ যখন নতুন সাংস্কৃতিক পরিচয় খুঁজছিল, তখন আজম খানের গান হয়ে উঠেছিল তাদের ভাষা। প্রেম, স্বপ্ন, হতাশা, সমাজ ও জীবনের নানা গল্প উঠে এসেছে তার গানে। ফলে তার গান শুধু বিনোদন দেয়নি, সময়ের কথাও বলেছে। ‘হৃদয় সাগর মরুভূমি’, ‘বাংলাদেশ’, ‘মা গো মা’, ‘সালেকা মালেকা’, ‘প্রেম চিরদিন দূরে দূরে’, ‘অভিমানী’, ‘চুপ চুপ চুপ’ কিংবা ‘জীবনে কিছু পাবো না’এমন অসংখ্য গান আজও নতুন শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়। ডিজিটাল যুগেও তাঁর গান নিয়মিত শোনা হয়, নতুন করে কাভার হয়, আলোচনায় আসে। অনেকেই ভুলে যান, সংগীতশিল্পী হওয়ার আগে আজম খান ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ২ নম্বর সেক্টরের একজন সম্মুখসমরের যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছেন। পরে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে গিটার হাতে নিয়ে শুরু করেন আরেক লড়াই—সংগীতের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্মাণের লড়াই। পরবর্তী সময়ে তার প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’ শুধু একটি সংগীতদল ছিল না; এটি হয়ে উঠেছিল একটি আন্দোলনের নাম। বাংলা ব্যান্ডসংগীতকে মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত করতে এই ব্যান্ডের অবদান আজও স্মরণ করা হয়। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রচারিত অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন ‘উচ্চারণ’-এর সদস্যরাও। তাদের পরিবেশনায় শোনা যাবে আজম খানের জনপ্রিয় গান। পাশাপাশি উঠে আসবে তার শিল্পীজীবনের নানা অজানা স্মৃতি, মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সংগীতচিন্তা এবং বাংলা রকসংগীতের বিকাশে তার পথিকৃতের ভূমিকার গল্প। একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী ২০১১ সালের ৫ জুন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তবে তার বিদায়ের ১৫ বছর পরও বাংলা সংগীতের আকাশে তিনি রয়ে গেছেন উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে। কারণ আজম খান শুধু একজন শিল্পীর নাম নয়, তিনি বাংলা ব্যান্ডসংগীতের একটি অধ্যায়, যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ইরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইংল্যান্ডের 'ঘরে ফেরানোর' বিশ্বকাপ দলে কারা কারা আছেন?
ভ্যাট রিটার্নে আসছে বড় পরিবর্তন
বনলতা সেন কাব্যিক অন্বেষণের চলচ্চিত্র
সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ জনের
গানে-গল্পে আজম খান স্মরণে ভিন্নধর্মী আয়োজন
আগামীকাল বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তালাবদ্ধ দোকান থেকে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে ৬ জনের মৃত্যু
সর্বশেষ খবর
ভ্যাট রিটার্নে আসছে বড় পরিবর্তন
Jun 05, 2026
বনলতা সেন কাব্যিক অন্বেষণের চলচ্চিত্র
Jun 05, 2026