পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত ৯০তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক। আজ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কায় শুরু হয় এ বৈঠক। এসময় গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি পর্যালোচনা করতে ফারাক্কা বাঁধ ও গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) প্রতিনিধি দল। দুই দেশের প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার বোটে করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কায় গঙ্গা নদীতে ভারত-বাংলাদেশ 'জয়েন্ট অবজারভেশন সাইট'এ গিয়ে পানি প্রবাহের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। গঙ্গার ডাউন স্ট্রিম ফরাক্কা বেনিয়া গ্রাম ঘাটপাড়া মেলার মাঠ সংলগ্ন অফিস থেকে ফরাক্কা ব্যারেজের পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণের সাথে সাথে ভাগীরথী ও পদ্মা নদী পানি বিভাজন স্থল পর্যন্ত পানি প্রবাহের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। গঙ্গা থেকে ফিরে এসে ফিডার ক্যানেলে ব্যারেজ সংলগ্ন স্টলে সেখানেও পর্যবেক্ষণ চালান উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। কিন্তু পর্যবেক্ষণ বা পানিপ্রবাহের পরিমাণ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি কেউই।
ভারতের প্রতিনিধি দলের তরফে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে এটি রুটিন পর্যবেক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। ভারত-বাংলাদেশ ৯০তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের অংশ হিসাবেই এদিন উভয় দেশের প্রতিনিধি দল ফারাক্কা পরিদর্শন করেন। শুক্রবার বিকেলে কলকাতার ই এম বাইপাসের ধারে একটি তারকা হোটেলে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক রয়েছে। এই বৈঠকে যোগ দিতে বুধবারই কলকাতায় এসে পৌঁছন বাংলাদেশের ছয় সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মহম্মদ আনোয়ার কাদীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের দলে আছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড হাইড্রলজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মহম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব ডিভিশনাল প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।
এছাড়াও ওই টিমে যোগ দিয়েছেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মহম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রের পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দফতরের একজন প্রধান প্রকৌশলী। যৌথ নদী কমিশনের এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরন ইস্যু। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার আগে এটাই সর্বশেষ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর পঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হয়েছিল। ৩০ বছরের সামগ্রিক চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে মাস এই শুষ্ক মৌসুমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহের কথা উল্লেখ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের নতুন সরকার চায় ভারতের সাথে আগের চুক্তির নবায়ন নয়, বরং বাংলাদেশের স্বার্থ ও চাহিদা বিবেচনায় রেখে একটি নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি। স্বাভাবিকভাবেই শুক্রবার কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের ৯০ তম বৈঠকের দিকে তাকিয়ে সব পক্ষ।