সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালককে দায়ী করলে হবে না। চালকের বেতন, কর্মঘণ্টা, শারীরিক সক্ষমতা, যানবাহনের ফিটনেস এবং পরিবহন খাতে হয়রানির বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। একইসঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু সড়ক নির্মাণ নয়, এমন একটি সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন। এ জন্য সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ অবকাঠামো, নিরাপদ যানবাহন, সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা এবং দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
পরিবহন মালিকদের উদ্দেশে হাবিবুর রশিদ বলেন, অতিরিক্ত লাভের আশায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে নামানো যাবে না। একটি দুর্ঘটনায় যেমন বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে, তেমনি সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানি ও মালিকও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তবে গাড়ির কাগজপত্র ও ফিটনেস নিশ্চিত করতে গিয়ে মালিকেরা যাতে অযথা হয়রানি বা আর্থিক ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও সরকারকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকেরা যাতে অন্যায় আচরণ বা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সেবা নিতে এসে কেউ হয়রানির শিকার না হন।
তিনি বলেন, পেশাদার চালকদের স্বাস্থ্য ও চোখ পরীক্ষা, মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো প্রতিরোধ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা যাচাই করে লাইসেন্স দেওয়া এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি, বেপরোয়া গতি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মহাসড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে কেউ কারও প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, কেউ কারো শত্রু নয়। আমরা সবাই এই দেশকে ভালোবাসি। আমাদের সবারই নিজের, পরিবারের এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।