মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 06, 2026
October 06, 2026
জাতীয়
জাতীয়

সিন্ডিকেট ভাঙতে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি হবে লটারিতে: আইনমন্ত্রী

Published: October 06, 2026 at 12:15 PM
সিন্ডিকেট ভাঙতে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি হবে লটারিতে: আইনমন্ত্রী

সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নিয়ে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জনমনে যেসব জায়গাকে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেসব জায়গায় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙতেই সাব-রেজিস্ট্রারদের লটারির মাধ্যমে বদলির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একদিনে কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে পরিবর্তনের জন্য কোনো একটি জায়গা থেকে শুরু করতে হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার পদগুলোকে ‘এ’ ক্যাটাগরির গুরুত্বপূর্ণ পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তিনি জানান, বর্তমানে সারাদেশে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৩১ জন সাব-রেজিস্ট্রার রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে ১৮ জনকে ঢাকার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। পরে কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সংশ্লিষ্ট এলাকার কাজের চাপ বিবেচনা করে বিভিন্ন অফিসে তাদের পদায়ন করা হবে।

দক্ষতা বিবেচনায় পদায়ন

আসাদুজ্জামান বলেন, শুধু লটারির ফলের ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের ঢাকার বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই লটারিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের দক্ষতা যাচাই করে কোন এলাকায় কে দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত, তা নির্ধারণ করা হবে।

যেসব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কাজের চাপ বেশি, সেখানে সেই চাপ সামলাতে সক্ষম কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সাব-রেজিস্ট্রারদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলির এ প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি কেবল শুরু। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

‘প্রাইজ পোস্টিং’ ভাঙতে রোটেশন

আইনমন্ত্রী বলেন, যেসব পদকে বিভাগীয়ভাবে ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং যেখানে দুর্নীতির শিকড় গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে, সেসব পদে রোটেশনের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা করা হবে।

এই উদ্যোগে দুর্নীতি কমবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে আশাবাদী।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা

সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো নিয়মিত নজরদারিতে রাখছে। গণমাধ্যমে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য-প্রমাণ প্রকাশিত হলে তা মন্ত্রণালয়কে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত প্রতিটি দুর্নীতির অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়েছে।

তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রমাণ ছাড়া কাউকে হয়রানি করা হবে না। আবার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ছয় মাসে ১০ জন সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

দেশে ৩৭২ সাব-রেজিস্ট্রার, শূন্য পদ ১৩৯

আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৩৭২ জন সাব-রেজিস্ট্রার কর্মরত রয়েছেন। আরও ১৩৯টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে চলমান রয়েছে।

লটারিতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের ঢাকায় দায়িত্ব পালনের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্ভিস রুল অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাধারণভাবে দুই বছর দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়ালে তাকে ওই পদে রাখা হবে না।

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা

এ সময় সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে কিছু সাংবাদিকের টাকা বা মাসোহারা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানান আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংবাদিক কিংবা সাব-রেজিস্ট্রার—যার বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।