মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 06, 2026
October 06, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

বরফের নিচে লুকানো মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

Published: October 06, 2026 at 12:13 PM
বরফের নিচে লুকানো মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনে নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

বরফের গভীরে লুকিয়ে থাকা মহাজাগতিক রহস্য উন্মোচনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। দক্ষিণ মেরুতে স্থাপিত আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে নেতৃত্ব এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণে অবদানের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

৮২ বছর বয়সী ফ্রান্সিস হালজেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণ মেরুতে নিউট্রিনো শনাক্তকরণ নিয়ে তার গবেষণার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮০-এর দশকে।

নোবেল কমিটির মতে, হালজেনের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব নতুন ধরনের জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ তৈরি করেছে। নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মহাবিশ্বকে দেখার যে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম পথিকৃৎ তিনি।

দক্ষিণ মেরুর বরফের নিচে বিশাল পর্যবেক্ষণাগার

আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি দক্ষিণ মেরুর বরফের প্রায় দেড় কিলোমিটার গভীরে স্থাপিত একটি বিশাল নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণাগার। এর পর্যবেক্ষণ এলাকা প্রায় এক ঘনকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত।

বরফের গভীরে বসানো হয়েছে অসংখ্য আলোকসংবেদী সেন্সর। এসব সেন্সরের মাধ্যমে মহাবিশ্ব থেকে পৃথিবীতে আসা অত্যন্ত উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করা হয়।

নিউট্রিনো হলো এক ধরনের অতিপারমাণবিক কণা, যা অন্য পদার্থের সঙ্গে অত্যন্ত কম মিথস্ক্রিয়ায় জড়ায়। ফলে কোনো বাধা ছাড়াই এসব কণা বিপুল দূরত্ব অতিক্রম করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও শক্তিশালী উৎস সম্পর্কে তথ্য পেতে নিউট্রিনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মহাবিশ্বকে দেখার নতুন জানালা

প্রচলিত জ্যোতির্বিজ্ঞানে মহাবিশ্বের বিভিন্ন বস্তু ও ঘটনা পর্যবেক্ষণে মূলত আলো বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। তবে নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু উৎস সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন।

আইসকিউবের পর্যবেক্ষণ মহাজাগতিক নিউট্রিনোর শক্তি, উৎস এবং উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের এক গবেষণায় আইসকিউবের তথ্য ব্যবহার করে ৫ টেরাইলেকট্রনভোল্ট থেকে ১০ পেটাইলেকট্রনভোল্ট শক্তির নিউট্রিনো বর্ণালিতে পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের পর্যবেক্ষণ মহাজাগতিক রশ্মির উৎস এবং মহাবিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী জ্যোতির্পদার্থবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে মানুষের বোঝাপড়া আরও গভীর করতে পারে।

১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা পুরস্কার

স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করে।

এ বছর প্রতিটি নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা। একাধিক বিজয়ী থাকলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ অর্থ ভাগ করে দেওয়া হয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর্ব শুরু হয়েছে। এরপর ঘোষণা করা হয়েছে পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার। রসায়ন ও সাহিত্যে নোবেল ঘোষণা হবে যথাক্রমে বুধবার ও বৃহস্পতিবার। শান্তিতে নোবেল ঘোষণা হবে শুক্রবার। আর অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার।

সূত্র: এনডিটিভি