নানা জটিলতা ছাপিয়ে তরুণ অ্যাথলেটদের রেকর্ড-ভাঙা কীর্তির মধ্য দিয়ে পর্দা নামল ২০তম এশিয়ান গেমসের। রবিবার (৪ অক্টোবর) জাপানের মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আসরের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি গেমসের সমাপ্তি টানেন এবং পরবর্তী ২০৩০ সালের ২১তম আসরের আয়োজক দেশ দোহার (কাতার) কর্মকর্তাদের হাতে গেমসের মশাল তুলে দেন।
প্রায় ১৭ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এবারের আসরটি প্যারিস অলিম্পিকের চেয়েও বড় আকারে অনুষ্ঠিত হয়। তবে আয়োজকদের ‘সহজ ও সুশৃঙ্খল’ পরিকল্পনার সঙ্গে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সমন্বয় না হওয়ায় শুরু থেকেই মাঠের বাইরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অ্যাথলেটদের আবাসন সংকট, বিছানার অভাব এবং তীব্র পরিবহন বিপর্যয়ের কারণে আয়োজক কমিটিকে একাধিকবার প্রকাশ্য ক্ষমা চাইতে হয়েছে।
এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় প্রতিটি খেলাতেই গ্যালারিগুলো ছিল শূন্য। এমনকি অ্যাথলেটিক্সের মূল ইভেন্ট কিংবা ফুটবল ফাইনাল বাদে বাকি খেলাগুলোতে নামমাত্র দর্শকের উপস্থিতি আয়োজকদের হতাশ করেছে। তবে জাপানি অলিম্পিক কমিটির সভাপতি সেইকো হাশিমোতো সব সমস্যা স্বীকার করে নিয়ে একে ‘ভবিষ্যতের বড় ইভেন্ট আয়োজনের শিক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
চীনের ১৩ বছর বয়সী সাঁতারু যু জিডি পুলে ৩টি একক স্বর্ণপদক জিতে আসরের সেরা নারী ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হয়েছেন। ৭ স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়েছেন চীনের আরেক ১৯ বছর বয়সী সাঁতারু ঝাং ঝানশু। এক আসরে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণপদক জয় ছিল এটি।
জাপানের ১৭ বছর বয়সী বিস্ময়বালক শিন ওহাশি ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন কীর্তি গড়েন। থাইল্যান্ডের ২০ বছর বয়সী স্প্রিন্টার পুরিপোল বুন্সন ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে জোড়া স্বর্ণ জিতে ছেলেদের আসরের সেরা ক্রীড়াবিদ নির্বাচিত হন।
পদক তালিকার শীর্ষস্থান বরাবরের মতোই নিজেদের দখলে রেখেছে পরাশক্তি চীন। বিদেশের মাটিতে নিজেদের ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে তারা ১৬৯টি স্বর্ণসহ মোট ৩৪১টি পদক জিতেছে। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জাপান ৮৩টি স্বর্ণসহ মোট ২৬৯টি পদক নিয়ে আসর শেষ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ৩০ টি স্বর্ণ, ৩১টি রৌপ্য ও ৫৪টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১১৫টি পদক নিয়ে রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ উজবেকিস্তান। তাদের সংগ্রহে রয়েছে ১৬টি স্বর্ণসহ মোট ৫৬টি পদক। ১২টি স্বর্ণসহ ইরান রয়েছে পঞ্চম স্থানে। সমানসংখ্যক ১২টি স্বর্ণ নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে থাইল্যান্ড। অন্যদিকে, ভারত এখন পর্যন্ত ১১টি স্বর্ণ, ২৪টি রৌপ্য ও ৩৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৬৮টি পদক জিতে তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের পদকসংগ্রহ এখনো সীমিত। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। দেখা পায়নি কোনো স্বর্ণ বা রৌপ্য পদকের।