বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসেনের ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, ৭ জনের কারাদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১ মাসের শিশু অপহরণের ৩৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার, দম্পতি গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ফ্যামিলি সমাবেশ ১৫০ বছর পর ফিরল হারিয়ে যাওয়া পাখি ৮০-১০০ কেজি ওজনের মানুষও ভাসছেন শালুক পাতায় রক্তে প্লাটিলেট বাড়াবে যেসব খাবার শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক সফর ঘিরে হোয়াইট হাউসে বর্ণাঢ্য আয়োজন ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার : সেরা অভিনেতা কার্তিক-মামুট্টি, সেরা অভিনেত্রী ইয়ামি দীর্ঘ লড়াই শেষে ক্যান্সার জয়, ফের পর্দায় ফিরছেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
Printed on: September 23, 2026
September 23, 2026
জাতীয়
জাতীয়

২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ শতাংশে পৌঁছাবে : এডিবি

Published: September 23, 2026 at 11:03 AM
২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ শতাংশে পৌঁছাবে : এডিবি

ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। আগামী ২০২৭ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আজ প্রকাশিত সংস্থাটির ফ্ল্যাগশিপ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) সেপ্টেম্বর ২০২৬’-এ এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ হতে পারে, যা আগের ২০২৫ অর্থবছরে ছিল ৩.৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় দেশে ঘরোয়া ভোগ ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছে। এটিই মূলত প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার ফলে সরবরাহ শৃঙ্খলে সৃষ্ট প্রভাবের কারণে ২০২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।


​মূল্যস্ফীতি ও চলতি হিসাবের ওপর চাপ

এডিবি জানিয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে ১০.০ শতাংশ থাকা সার্বিক মূল্যস্ফীতি ২০২৬ অর্থবছরে কিছুটা কমে ৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বিদ্যুৎ-জ্বালানির ঘাটতি, উচ্চ উৎপাদন ও পরিবহন খরচ এবং এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যপণ্যের দাম চড়া থাকায় ২০২৭ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে ৯.০ শতাংশে উঠতে পারে। ​অন্যদিকে, কাঁচামাল ও জ্বালানি আমদানির পরিমাণ রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় ২০২৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ০.৬ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২৬ অর্থবছরে ছিল ০.৩ শতাংশ। তবে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ধারাবাহিক প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।


​খাতওয়ারী পরিস্থিতি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরে কৃষি ও সেবা খাত প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে। তবে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ঋণ পাওয়ার সংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং বিশ্ববাজারে দুর্বল চাহিদার কারণে শিল্প ও উৎপাদন খাত তুলনামূলক চাপে থাকবে। শক্ত রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে ব্যক্তিগত ভোগ চাঙা থাকলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমাবে।


​চার ক্ষেত্রে দ্রুত সংস্কারের তাগিদ

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলেও বাহ্যিক নানা ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে এই পুনরুদ্ধার এখনো স্পর্শকাতর। টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রাণবন্ত প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে নীতিগত সংস্কার করতে হবে। ​তিনি জানান, এই সংস্কারগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে এডিবি বাংলাদেশ সরকারকে সব ধরনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।


​যেসব ঝুঁকি বহাল রয়েছে

এডিবি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলেও পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন, ব্যাংক খাতের নানামুখী সংকট, রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ করে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।