চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে চুরির মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে নাচোল থানা পুলিশ। এদের মধ্যে একজনকে ফেনী জেলার দাগনভূইয়া এবং অপরজনকে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে চুরি হওয়া নগদ টাকা ও মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার মৃত নুর হোসেন হাওলাদারের ছেলে মো. সবুজ (৩০) ও চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. ইউসুফ (৬৫)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওয়াসিম ফিরোজ জানান, মামলার বাদী চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট এলাকার বাসিন্দা সাধন কান্তর ছেলে জুয়েল বনিক (৪০) একজন গরু ব্যবসায়ী। গ্রেপ্তার হওয়া মো. সবুজ প্রায় ১০-১২ ধরে বাদীর পরিচিত এবং মাঝেমধ্যে বাদীর খামারে রাখাল হিসেবে কাজ করত। গত ১৫ এপ্রিল বাদী তার গরুর রাখাল সবুজকে সঙ্গে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাচোল উপজেলার সোনাইচন্ডীহাটে গরু কেনার জন্য আসেন। বাদীর বিশ্বস্ত রাখাল হওয়ায় তার (জুয়ের বনিকের) নগদ ১০ লাখ টাকা, একটি ভিভো অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন, ইউসিবি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের ০২০২১১২০০০০০০০৩৩ এর ৫০ পাতার চেকবইসহ একটি ব্যাগ সবুজের হেফাজতে রেখে গরু দেখতে শুরু করেন। দুপুর ১টার দিকে সবুজ বাদীর ব্যাগ, ব্যাগে রাখা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, চেকবইসহ পালিয়ে যায়। স্থানীয় অনেকের সহযোগিতায় সবুজকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত ২১ এপ্রিল নাচোল থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো জানান, এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি আভিযানিক টিম গঠন করে নাচোল থানা পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) মো. খাইরুল ইসলামের নেতৃত্বে আভিযানিক টিমটি ফেনী জেলার দাগনভূইয়া থানা হতে এবং চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানা এলাকা হতে রুজুকৃত মামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মো. সবুজ ও মো. ইউসুফকে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের হেফাজত হতে নগদ ৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, বাদীর চুরি যাওয়া টাকা হতে কেনা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটোরিকশার ৪টি ব্যাটারি, একটি ভিভো অ্যান্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন, ইউসিবি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবই এবং ছাই রঙের একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান জেলা পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিম ফিরোজ।