চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমের দীর্ঘতম টানা বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল দিনব্যাপী থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের পর রাতেও বৃষ্টিপাত অব্যহত ছিল। তবে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিক থেকে আজ দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত কখনও হালকা, কখনও মাঝারি আবার কখনও ভারী বৃষ্টি হয় জেলা জুড়ে। তবে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বৃষ্টি হয় টানা না থেমে। আজদুপুরে কিছু সময়ের জন্য রোদের দেখা মিললেও আবার বিকালে ঘন কাল মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে আকাশ। বিকাল ৫টার দিকে আবারও শুরু হয়েছে থেমে থেমে বৃষ্টি। সন্ধ্যা পর্যন্ত যা অব্যহত রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলা জুড়ে গতকার সকাল থেকে আজ সকাল পর্যন্ত গড়ে ৩৬.৪ মি.মি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৪৫, শিবগঞ্জে ৩২, গোমস্তাপুরে ৩০, নাচোলে ৫০ ভোলাহাট উপজেলায় ২৫ মিমি গড়ে বৃষ্টিপাত রকের্ড করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘক্ষণ ও টানা বৃষ্টি হয়েছে গতকাল দিবাগত মধ্যরাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকাতে। এতে বিভিন্ন মোড় ও পাড়া-মহল্লাতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধাতা। অনেকস্থানে মানুষের ঘরবাড়ির মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। সড়কগুলো ডুবে থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে।
জেলা প্রশাসক কার্যলয়, আদালত এলাকা, প্রধান বিপনীবিতান এলাকাগুলো ডুব্ে গেছে। বৃষ্টির দাপটে শহরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রাজশাহী ও সোনামসজিদ মহাসড়কেও পানি উঠে যায়। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারে নি। অনেক যানবাহনে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। শহরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার এমন দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। শিবগঞ্জ সহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকেও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। জেলা জুড়ে কিছু কিছু জমিতে পানি জমেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুর রহমান বলেন, আজ রাতভর মূলত পৌর এলাকাতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে গ্রামাঞ্চলে জমিতে থাকা আমন সহ অন্য ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হবে না। তবে বৃষ্টিপাত অব্যহত থাকলে কিছু জমির ফসল আক্রান্ত হতে পারে। নিমজ্জিত হতে পারে ধানের মাঠ। বৃষ্টি চলছে গত টানা ৩দিন অর্থাৎ গত সোমবার ৩১ আগষ্ট থেকেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার টাউন প্লানার ইমরান হোসাইন শহরে প্রচুর জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রায় পুরো শহর জুড়ে চলছে ড্রেন নির্মাণ কাজ। ড্রেনের আউটফল (নির্গমন পথ) এখনও সম্পন্ন হয় নি। ফলে প্রায় সব এলাকাতেই বিশেষ করে নীচু এলাকাগুলোতে পানি আটকে গেছে। বের হতে সময় লাগছে। দ্রুত ড্রেনের কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।