চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল। এই জেলার আরো রোগী এর আগে মারা গেলেও তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
মারা যাওয়া ব্যক্তি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি গ্রামের বাদলের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (২৪)।
সোমবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতালের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিদিনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন জটিল রোগীকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ২২ জনের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী রয়েছেন। অন্যদিকে ১৪ জন সাধারণ রোগীকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
একই সময়ে জেলা হাসপাতাল থেকে ২৬ জন, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১ জন ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ২ জনসহ মোট ৩৪ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় জেলা হাসপাতাল থেকে ৪ জন রোগীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সময়ে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন ও নারী ২১ জন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫০৪ জন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে সর্বোমোট ১ হাজার ১৪ জন শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মোট ৮১ জন রোগীকে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সময়ে একজন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন— মারা যাওয়া রোগীটি ৫ থেকে ৬ দিন জ্বরে আক্রান্ত ছিল। ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খাচ্ছিল। অবস্থা খারাপ হলে একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল। সেই চিকৎসকের কাছেই তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসক তাকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে পরামর্শ দেন। কিন্তু তা না করে বাড়িতেই থেকে যায়। পরে অবস্থা খুবই খারাপ হলে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় মুমূর্ষু অবস্থায় জেলা হাসপাতালে আসে। তার অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে, তাকে রাজশাহী পাঠানোর মতো অবস্থাও ছিল না। ফলে ভর্তির আড়াই ঘণ্টা পর সে মারা যায়।