নেপালে ভয়াবহ হড়কা বান ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবারের বিধ্বংসী বন্যার পর আজ বিকেল পর্যন্ত দেশটির আটটি জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালি পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত মৃতের সংশোধিত সংখ্যা ৩৫৯ জনে পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, রাসুয়ায় ১৭টি, নুয়াকোটে ২৮টি, ধাদিঙে ৩৩টি, চিতওয়ানে ১৩২টি, গোর্খায় ৩০টি, তানাহুনে ২২টি, নওয়ালপরাসি পূর্বে ৮২টি এবং নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসি পূর্ব জেলায়। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং বন্যার পানিতে আটকে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নদীর তীরবর্তী এলাকা, ধ্বংসস্তূপ এবং দুর্গম স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসাবশেষে অবরুদ্ধ সড়কগুলোও পরিষ্কার করার কাজ চলছে। বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর বন্যার পানি ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীপ্রবাহ ধরে দ্রুত ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নদীর তীরবর্তী জনবসতি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভোটেকোশি নদীর উজানে স্থাপিত কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় বন্যা-পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। ফলে আকস্মিক বন্যার শুরুতে এসব কেন্দ্র থেকে স্বাভাবিক সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এর আগে কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছিল, বন্যায় শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৮২৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কথা জানানো হয়। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। বন্যার ভয়াবহতায় নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুন এবং নওয়ালপরাসিসহ একাধিক জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নিখোঁজদের শনাক্ত ও তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।