শিবগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর রুমন আলী নামে এক অটোরিকশাচালকের গলিত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে রুমনকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা এবং হত্যায় ব্যবহৃত হাসুয়াসহ বিভিন্ন আলামত। গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার পুঁটিমারি বিলের একটি আখক্ষেত থেকে রুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রুমন আলী উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের মোহনবাগান গ্রামের রাজু আহমেদের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কানসাট সেলিমাবাদ খানপাড়ার মনিরুল খানের ছেলে ওয়াসিম, বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত নুরুলের ছেলে রফিকুল আলম এবং বাগদুর্গাপুর কলকলিয়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে ওমর ফারুক। আজ দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ২১ আগস্ট ভোরে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রুমন আর ফিরে আসেননি। পরদিন তাঁর বাবা শিবগঞ্জ থানায় জিডি করেন। এরপর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে ২৩ আগস্ট প্রথমে অসিমকে আটক করে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রফিকুল আলমকেও আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অসিম ও রফিকুল জানান, তাঁরা রুমনের অটোরিকশাটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রির চুক্তি করেন এবং নগদ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে সেটি ওমর ফারুকের কাছে বিক্রি করেন। পরে ওমর ফারুককে আটক করে তাঁর কাছ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, তিনজনকে আটকের পর ওই দিনই রুমনের স্ত্রী শিবগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অসিম রুমনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে অসিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী স্থানীয়দের সহায়তায় পুঁটিমারি বিলের আখক্ষেত থেকে রুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে রুমন হত্যার প্রতিবাদে গত ২৪ আগস্ট স্থানীয়রা মানববন্ধন করেন। এ সময় সোনামসজিদ স্থলবন্দর মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান তাঁরা।