জাপানের রাজধানী টোকিওর কাছে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। রোববার ভোরের এই ভূমিকম্পে টোকিও ও আশপাশের এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। এতে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে টোকিওর কাছের ইবারাকি প্রিফেকচারের দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬৮ কিলোমিটার গভীরে।
জেএমএ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৮ বলে জানিয়েছে।
জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, টোকিওর দক্ষিণে ইয়োকোহামা এলাকায় ৮০ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত পান তিনি।
ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন
ভূমিকম্পের প্রভাবে রোববার সকালে টোকিও ও আশপাশের এলাকায় আঞ্চলিক ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি জানিয়েছে, কম্পনের কারণে কয়েকটি রেলসেবায় বিঘ্ন দেখা দেয়।
এদিকে টোকিওর উত্তরে সাইতামা এলাকায় একটি ভবন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি।
কিয়োদো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর একটি এলাকায় পানির প্রধান পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনাটি ভূমিকম্পের কারণে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের পর জাপানের সতর্কতাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় সতর্কবার্তা ও সাইরেন বাজানোর পাশাপাশি মানুষের স্মার্টফোনেও জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
ভূমিধস ও আফটারশকের আশঙ্কা
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার ওই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এর ফলে ভূমিকম্পে মাটি আলগা হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে।
সংস্থাটি আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী আফটারশকের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।