শনিবার ২২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 22, 2026
August 22, 2026
জাতীয়
জাতীয়

গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও এখনই সংকট কাটছে না

Published: August 22, 2026 at 12:07 PM
গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও এখনই সংকট কাটছে না

গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল)। তিনদিন বন্ধ থাকার পর শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১টায় পুনরায় সরবরাহ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মোঃ শোয়েব।  শনিবার দুপুর ১টায় ১০০ মিলিয়ন নিয়ে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়বে। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হতো। এক মাসের তুলনায় কিছুটা বেড়ে শনিবার (২২ আগস্ট) ২৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। এরমধ্যে দেশীয় উৎস থেকে ১৬২১ মিলিয়ন এবং আমদানি থেকে ৬৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে শিল্পসহ অন্যান্য খাতে সংকট বেড়েছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এর কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, এফএসআরইউ চালু হলেও এখনই পূর্ণমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যাচ্ছে না। ২৭ আগস্টের সিডিউল একটি কার্গো দেশে আসছে না। সে কারণে অল্পমাত্রায় সরবরাহ করা হবে পরবর্তী কার্গো না আসা পর্যন্ত। আশা করছি, ৩০ আগস্টের দিকে গ্যাস সরবরাহ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর থেকে কমবেশি ২১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছিল। এতে করে সারাদেশে ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দেয়। ৬ আগস্ট আংশিক সরবরাহ শুরু করলে কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু ১৩ আগস্ট থেকে এলএনজির অভাবে সংকট বেড়ে যায়। সর্বশেষ ১৯ আগস্ট এলএনজি সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ। টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ৪ কার্গো এলএনজি আমদানির আদেশ দিয়েছিল রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। যার একটি ১৭ এবং ২৭ আগস্ট দেশে আসার কথা ছিল। কার্গো না থাকায় আংশিক সরবরাহে থাকা এক্সিলারেটের টার্মিনাল ১৯ আগস্ট বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এখন সব প্রস্তুত থাকলে এলএনজি আমদানি করতে না পারায় একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে এখনকার গ্যাস সংকটের জন্য আরপিজিসিএল (রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড) এর অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। পেট্রোবাংলার আওতাধীন কোম্পানি আরপিজিসিএল এলএনজি আমদানি, খালাস ও এফএসআরইউ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। তাদের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এক কার্গো ফেরৎ পাঠাতে হয়েছে। এক সময়ে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬২১ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী দেশে ৮টি গ্রাহক শ্রেণিতে অনুমোদিত লোডের পরিমাণ রয়েছে ৫ হাজার ৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক)। চাহিদা ধারণা করা হয় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।