অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। তবে সেই জয়ের পরও বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা।
প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বমানের বোলাররা বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে খুব একটা পাত্তা পায়নি। শনিবার আবারও ব্যাটারদের সামনে কামিন্স-স্টার্ক হ্যাজলউডরা।
তবে এমন বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হওয়াটাকেই বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
ম্যাকাইয়ে শনিবার শুরু হচ্ছে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।
তার আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের অধিনায়ক জানালেন, অস্ট্রেলিয়ায় আসার আগেই এই বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে খেলার জন্য তিনি মুখিয়ে ছিলেন। কারণ, এই বোলারদের বিপক্ষে রান করতে পারলে সেটি ভবিষ্যতে যেকোনো বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে, এখানে আসার আগে আমি সত্যিই এই ধরনের বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলাম। কারণ আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আমি যদি এই ধরনের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে রান করতে পারি, তাহলে যেকোনো বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেই রান করতে পারব।’
ডারউইনের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটিং। প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে ২২৮ রানের লিড নিয়েছিল তারা। এবার ম্যাকাইয়ের কন্ডিশনে সেই সাফল্য ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। শান্তর কাছে অবশ্য চ্যালেঞ্জের চেয়ে বড় বিষয় হলো এই সুযোগ কাজে লাগানো, ‘এটা একটা সুযোগ এবং ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আপনি যখন এই ধরনের দলের বিপক্ষে রান করবেন, তখন সামনে এই ধরনের কন্ডিশন বা এই ধরনের বোলিং আক্রমণের মুখোমুখি হলে সেটা আপনাকে অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে। এখানে আসার আগে আমি এসবই ভাবছিলাম এবং এটা অনেক সাহায্য করে।’
ম্যাকাইয়ের উইকেটে ডারউইনের চেয়ে বেশি বাউন্স পাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন শান্ত। তবে এমন কন্ডিশনের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে কাছাকাছি ধরনের উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগবে বলে মনে করেন তিনি, ‘আমারও তাই মনে হয়। এই কন্ডিশনে ডারউইনের চেয়ে একটু বেশি বাড়তি বাউন্স থাকবে। এখানে আসার আগে আমরা এই ধরনের বাউন্সি ট্র্যাকের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। এখানে আসার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমাদের একটি সিরিজ ছিল, যেখানে উইকেট প্রায় একই রকম ছিল।’
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের বিপক্ষে রান করার সেই সুযোগ এবার কতটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ, সেটিই দেখার। শান্তর বিশ্বাস, প্রস্তুতি অনুযায়ী খেলতে পারলে বাড়তি বাউন্সও সামলে নেওয়া সম্ভব, ‘আমি আশা করি, গত কয়েক দিনের নেট সেশনে ব্যাটাররাও নিজেদের স্কিল নিয়ে কাজ করেছে। আমার মনে হয় তারা এই বাড়তি বাউন্স সামলাতে পারবে।’