সাদাকালো থেকে রঙিন পর্দা অবিরত অভিনয় দিয়েই সাধারণ থেকে হয়েছেন কিংবদন্তি। নায়ক থেকে পেয়েছেন নায়করাজ উপাধি।
জীবনভর রুপালি পর্দায় নানা চরিত্রে ভেসে ভেসে ‘অনন্ত প্রেম’ সিনেমার এই নায়কও অনন্তের পথে চলে গেলেও, কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসার দ্বীপ নেভে নাই।
চলচ্চিত্রাঙ্গনে আয়োজন না থাকলেও নায়করাজের পরিবার কর্তৃক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্জাকের ছোট ছেলে অভিনেতা খালিদ হোসেন সম্রাট। তিনি বলেন, আব্বা ছাড়া দেখতে দেখতে নয়টি বছর চলে গেল। যেহেতু নায়করাজ আমার বাবা, স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিকভাবে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। কিন্তু এর বাইরে চলচ্চিত্র পরিবার বা ইন্ডাস্ট্রি আব্বাকে মনে করল কি করল না, তা নিয়ে আগে মন খারাপ হতো, এখন আর এসব নিয়ে ভাবি না। আমরা শুধু তার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।
রাজ্জাকের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। নায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ হয় জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে সুচন্দার বিপরীতে। তারপর থেকে একাধারে অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গন দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তিনি।
রাজ্জাক ১৯৬২ সালে খায়রুন নেসার (লক্ষ্মী) সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেন রেজাউল করিম (বাপ্পারাজ), খালিদ হোসেইন (সম্রাট), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসেন বাপ্পি, আফরিন আলম ময়না।
দেশের
শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে নায়করাজ ২০১৫ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পুরস্কারে ভূষিত হন। শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন মোট পাঁচবার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পান ২০১৩ সালে। এছাড়াও বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।