নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে যৌথভাবে কাজ করবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও CAB ইন্টারন্যাশনাল। এ লক্ষ্যে ‘Up-scaling of the Sustainable Agroecological Farming in Bangladesh’ শীর্ষক একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
আজ অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। CAB ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. বিনোদ পণ্ডিত।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফজলুল কাদের। তিনি বলেন, টেকসই ও বাজারভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে এগিয়ে নেওয়া জরুরি। বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ও এগ্রো-ইকোলজিক্যাল ফার্মিং প্রসারে কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব চাষাবাদে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের মধ্য থেকেই জৈব বালাইনাশক তৈরির মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ফজলুল কাদের বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস পাবে, অন্যদিকে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাও আরও বেগবান হবে।
CAB ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. বিনোদ পণ্ডিত বলেন, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ জৈব বালাইনাশকের বিস্তার ঘটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং বাজারভিত্তিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ সমঝোতার মাধ্যমে CAB ইন্টারন্যাশনালের ‘PlantwisePlus’ কর্মসূচির কারিগরি দক্ষতা এবং পিকেএসএফের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ককে একত্র করা সম্ভব হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন Centre for Agriculture and Biosciences (CAB) International, বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সালেহ আহমেদ।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষি, কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলো।