সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া বা প্রক্সি পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ঠেকাতে ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কার্যক্রমে প্রকৃত প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য কারো পরীক্ষায় অংশ নেওয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে অনিয়ম ঠেকাতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দেওয়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনাগুলো হলো :
১. আবেদনপত্রে আবেদনকারীর সাম্প্রতিক ছবি, অর্থাৎ আবেদন দাখিলের এক মাসের মধ্যে তোলা রঙিন ছবি ব্যবহার করতে হবে।
২. লিখিত পরীক্ষার আগে প্রার্থীর আবেদন ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে।
৩. লিখিত পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস—যেমন স্মার্টওয়াচ, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল হাতঘড়ি ইত্যাদি—ব্যাগ ও বইপত্রসহ নিয়ে পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় পরীক্ষার্থীদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে।
৪. পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
৫. পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে না।
৬. প্রবেশপত্র ও হাজিরা শিটে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা এবং রোল নম্বর মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর কক্ষ পরিদর্শক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করবেন। কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে হবে।
৭. মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রবেশপত্র এবং লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার্থীর হাতের লেখার সাদৃশ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজন হলে উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষা বোর্ডে পুনরায় সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।
৮. সম্ভব হলে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে এবং পরবর্তী ব্যবহারিক বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় প্রার্থীর সঙ্গে ওই ছবি মিলিয়ে দেখতে হবে।
৯. আবশ্যিকভাবে মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব পরীক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখতে হবে। পরবর্তীতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী যোগদানের সময় ওই ছবি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর নিয়োগপত্র গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে।
১০.পরীক্ষা শুরুর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।
১১. পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, কোর্ট/সামগ্রী ইত্যাদি আনার ক্ষেত্রে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
১২. ভুয়া (প্রক্সি) পরীক্ষার্থী প্রতিরোধে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তাদের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবহিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালীন প্রয়োজনীয় ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।