রবিবার ১০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: May 10, 2026
May 10, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

নাহিদ তাসকিনদের সামলে ইতিহাস গড়লেন আজান

Published: May 10, 2026 at 11:05 AM
নাহিদ তাসকিনদের সামলে ইতিহাস গড়লেন আজান

পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট অভিষেকেই স্মরণীয় এক ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি ওপেনার আজান আওয়াইস। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। দীর্ঘ সময় ধৈর্য ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলা এই ইনিংসটি শুধু দলকে শক্ত অবস্থানেই নেয়নি, পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসেও তাঁকে জায়গা করে দিয়েছে বিশেষ এক তালিকায়। আজ মিরপুরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আজানের উদ্‌যাপন ছিল বেশ আবেগঘন। ধারাভাষ্যকক্ষে বসে সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজা মন্তব্য করেন, পুরো ইনিংসজুড়ে আজান ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও সংযত, শতকের মুহূর্তেই প্রথমবারের মতো আবেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে তাকে। গতকাল মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ইমাম উল হককে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস শুরু করেন আজান। চার ঘণ্টা পাঁচ মিনিট ক্রিজে থেকে তিনি কখনোই নিয়ন্ত্রণ হারাননি। বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার একটি বাউন্সার তার হেলমেটে আঘাত করলেও সেটি তাকে বিচলিত করতে পারেনি। কনকাশন পরীক্ষার জন্য কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকলেও মাঠে ফিরে আগের মতোই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে থাকা তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম-কারও সামনেই খুব একটা ভুল করেননি আজান। তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন ৮৫ রান নিয়ে, এরপর মাত্র পাঁচ ওভারের মধ্যেই পৌঁছে যান শতকে। ১৫৩ বলে করা তার সেঞ্চুরিতে ছিল ১৪টি চার। তবে শতক পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাসকিনের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১৬৫ বলে ১০৩ রান করে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও বড় ইনিংস খেলার জন্য পরিচিত আজান আওয়াইস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৩ ম্যাচে তার রয়েছে ১০টি সেঞ্চুরি ও একটি ডাবল সেঞ্চুরি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণেই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সেই সুযোগের প্রথম ম্যাচেই রেখে দিলেন নিজের স্বাক্ষর। পাকিস্তানের ৭৪ বছরের টেস্ট ইতিহাসে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যানের সংখ্যা এখন ১৫। ওপেনার হিসেবে এই কীর্তি গড়া সপ্তম ব্যাটসম্যান হলেন আজান আওয়াইস। এর আগে পাকিস্তানের হয়ে অভিষেকে শতক করেছিলেন খালিদ ইবাদুল্লাহ, জাভেদ মিয়াঁদাদ, সেলিম মালিক, ইউনিস খান, ফাওয়াদ আলম ও আবিদ আলীদের মতো ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে সেঞ্চুরির ঘটনাও পাকিস্তানের জন্য নতুন নয়। ২০০১ সালে মুলতান টেস্টে তৌফিক উমর করেছিলেন ১০৪ রান। এরপর ২০০৩ সালে করাচি টেস্টে ইয়াসির হামিদ করেছিলেন দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি। সেই দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছিল পাকিস্তান।