মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সীমান্তবর্তী পদ্মার চরে ১,২০০ মানুষ ও ২০০ গবাদিপশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নাচোলে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দায় ডুবে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার মেসিদের স্বপ্নভঙ্গ, মন ভেঙেছে পরীমণি ভক্তদেরও দীর্ঘ বিরতিতে যাচ্ছেন ক্রিস্টোফার নোলান চালু হলো হ্যালো ডিসি অ্যাপ এক ক্লিকেই মিলবে জেলা বরবাদ টিমের নতুন সিনেমার নাম কি নিঃস্ব? ককরোচ পার্টির আন্দোলনে আটক স্বরার স্বামী ফাহাদ আহমেদ, বলিউড তারকাদের প্রতিবাদ আজ স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রবেশ নিষেধ, শুধুই পেটের উৎসবের দিন যে দেশ এখনও ফুটবল খেলে না
Printed on: July 21, 2026
July 21, 2026
বিনোদন
বিনোদন

মেসিদের স্বপ্নভঙ্গ, মন ভেঙেছে পরীমণি ভক্তদেরও

Published: July 21, 2026 at 01:09 PM
মেসিদের স্বপ্নভঙ্গ, মন ভেঙেছে পরীমণি ভক্তদেরও

বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু মাঠেই গড়ায় না, মাঠের বাইরেও মনস্তাত্বিক খেলা চলে অবিরাম। পক্ষে-বিপক্ষের যুক্তিতর্ক, তুমুল বসচা, কিংবা সব ছাপিয়ে প্রিয় দলের জন্য বাজি খেলারই অংশ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এর ছায়া পড়ে। ছড়িয়ে পড়ে সেই উচ্ছ্বাস বিশ্বময়। যে তারকাদের ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস, তারাও বিস্মিত হন ফুটবলের নান্দনিকতায়। তারাও গলা চড়ান প্রিয় দলের পক্ষে। প্রিয় খেলোয়াড়ের মুগ্ধতার কথা তারাও প্রকাশ করেন অবলীলায়। ফলে প্রিয় নায়ক-নায়িকারা কে কোন দলের সাপোর্টার জানা হয়ে যায় ভক্তদের।  

যেমন চিত্রনায়িকা পরীমণি আর্জেন্টিনার ফ্যান এ কথা সবার জানা। ফেসবুকে তিনি এ নিয়ে স্ট্যাটাস আগেও দিয়েছেন। কিন্তু আর্জেন্টিনা ফাইনালে ওঠার পর তার বিয়ের ঘোষণা সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে। বলতে দ্বিধা নেই, চোখ কপালে উঠেছে অনেকের! কারণ এ ধরনের কাছাকাছি ঘোষণা আমরা পশ্চিমা দেশগুলোর মডেল-গায়িকা-নায়িকাদের দিতে দেখেছি। বড় কোনো টুর্নামেন্টে ভারত ফাইনালে গেলে ‘ন্যুড ছবি প্রকাশ করব’ ‘বিয়ে করব’ ‘শতরান করলেই চুমু খাব’এ ধরনের কথা বলতে শুনেছি সে দেশের উঠতি নায়িকা বা মডেলদের। কিন্তু পরীমণি যে ঘোষণা দিয়েছেন তাতে অনেকের মনে হতে পারে বিশ্বকাপের সঙ্গে বুঝি বিয়েরও গভীর সম্পর্ক আছে!


পরীমণি সেই স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, “আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব, ফাইনাল।” কথাটা ছিল নিছক রসিকতা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসিকতা খুব অল্প সময়ই রসিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটি হয়ে যায় বিশ্লেষণের বিষয়, তারপর তর্ক-বিতর্ক, এরপর জনস্বার্থের ইস্যু।

এরপর যা হলো, সেটা আরো মজার। আর্জেন্টিনা জিতবে কিনা, সেই আলোচনার পাশাপাশি শুরু হয় পরীমণির বর কে? বিয়ে কি তবে আগেই হয়েছে, এখন শুধু ঘোষণা? নেটিজেনদের কেউ কেউ তো পরীমণির পাণিপ্রার্থী হতে লাইনও দিয়ে রেখেছেন। অনেকে জানিয়েছেন আগাম শুভ কামনা। সব দেখে মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের ফাইনালের পাশাপাশি অদৃশ্য বিয়ের খেলাও চলছে। অথচ এই রসিকতা, এটুকুও বুঝতে পারছিলেন না অনেকে। ফলে বাধ্য হয়ে ফাইনালের পর পরীমণিকেই লিখতে হলো “বিয়েটা আর করতে হলো না। এরপর বোঝা গেল, মাঠে হেরেছে একটি দল, কিন্তু ফেসবুকে হার মেনেছেন সম্ভাব্য পাত্রগণ!


তবে পুরো ঘটনায় পরীমণির চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আমাদের সামাজিক চরিত্র। আমরা এখন আর কোনো পোস্টকে পোস্ট হিসেবে দেখি না; সেটিকে ঘোষণা বানাই, প্রতিশ্রুতি বানাই, কখনো কখনো চুক্তিপত্রও বানিয়ে ফেলি। একটি হাসির ইমোজি দেওয়ার আগে আমরা বিয়ের সম্ভাবনা, বিচ্ছেদের কারণ, ভবিষ্যতের সন্তানের নাম সবকিছু নিয়েই গবেষণা শুরু করে দেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত রসিকতাও আর পুরোপুরি ব্যক্তিগত থাকে না। সেটি মুহূর্তেই জনগণের মাথাব্যথার কারণ হয়ে যায়। তারপর শুরু হয় ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, উপদেশ আর বিচার। তাই পরীমণির স্ট্যাটাস শুধু একটি মজার পোস্ট নয়; এটি আমাদের ডিজিটাল সমাজেরও প্রতিচ্ছবি। সেখানে দেখা যায়, আমরা খবরের চেয়ে গুঞ্জনে বেশি আগ্রহী, ঘটনার চেয়ে সম্ভাবনা নিয়ে বেশি উত্তেজিত, আর বাস্তবের চেয়ে কল্পনার গল্প অনেক দ্রুত বিশ্বাস করি।


বিশ্বকাপ চার বছর পরপর আসে। কিন্তু ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার বিশ্বকাপ প্রতিদিনই হয়। সেখানে ট্রফি জেতার দরকার হয় না; একটি বাক্যই যথেষ্ট। আর সেই বাক্য যদি পপুলার কোনো নায়িকার বিয়ে নিয়ে হয়, তাহলে তো কথাই নেই। ওদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার রেফারি সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজিয়ে দেন খেলা শুরু! ফাইনালের আগে পরীমণি তার পোস্ট নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতেও পড়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি তো এর আগে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করিনি। প্রেম করেছি, এরপর হুট করে বিয়ে করে ফেলছি। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তো মুসিবতে পড়ে গেলাম। ভাবিনি, এভাবে সবাই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। এত এত সিরিয়াস সব বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে, কিছুই বুঝতেছি না, কী করব। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের পথে আরেকটি বড় বাধার কথাও তুলে ধরেন পরীমণি। তিনি বলেছিলেন, “বিয়ের জন্য তো একজন অভিভাবক লাগে। আগে আমার অভিভাবক ছিল, এখন তো ওই পর্যায়ের কেউই নেই। ভাবছি, ছেলে বড় হোক, ছেলে বিয়েশাদি করুক। এরপর কিংবা তার আগে ছেলে যদি অভিভাবক হয়ে বিয়ে দেয়, তাহলেই বিয়ে করতে পারব।”


স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার ১–০ গোলে হারের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়েছে আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমণির ‘বিয়ের পরিকল্পনাও’। ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় পরীমণি মজার ছলে বলেন, “বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে। পরীমণির এমন মন্তব্যেও সাড়া পড়েছে। তার এই ফেসবুক পোস্টে প্রায় ৬৩ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন এসেছে, মন্তব্যের ঘর বন্ধ থাকায় শেয়ার হয়েছে পোস্টটি। এ প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, “ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে যেন বিয়ের আগেই সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেল। আর্জেন্টিনার জন্য মনটা খুব খারাপ। কারণ এই দলের সঙ্গে ইমোশন ও ভালোবাসা দুটোই জড়িয়ে আছে। তবে আমি মনে করি, হার মানেই শেষ নয়, নতুনভাবে শুরু করাও। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, তোমাদের জন্য অপেক্ষা থাকবে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নিশ্চয়ই তোমরা আরো দারুণভাবে ফিরে আসবে। আর মেসি তো একটা মায়া, তার জন্য মন থেকে ভালোবাসা। এদিকে, আর্জেন্টিনার হারের সঙ্গে সঙ্গে পরীভক্তদেরও মন ভাঙল। অন্যদিকে, যারা পাত্র হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তাদেরও স্বপ্নভঙ্গ হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ‘রসিকতা’ বুঝতে না পারার মানুষের সংখ্যা নেয়ায়েত কম নয়। ফলে পরীমণিরা যে ভবিষ্যতে এভাবে আরো অনেকবারই ভক্তের স্বপ্নভঙ্গ করবেনএ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।