বিশ্বজুড়ে বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বর শেষ হলেও প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র নাউরুতে ফুটবলের কোনও চিহ্নই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি বিশ্বের এমন একটি দেশ, যেখানে এখন পর্যন্ত কোনও অফিশিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়নি। পুরো দেশে কেবল শক্ত বালুর একটি মাত্র মাঠ রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ কিংবা মেসি-রোনালদোকে নিয়ে শিশুদের আগ্রহ থাকলেও, দ্বীপে ফুটবল খেলতে গেলেই হাসির পাত্র হতে হয়; কারণ সেখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা অসি রুলস। সাবেক ব্রটিশ ফুটবলার চার্লি পমরেয়ের নেতৃত্বে একদল স্বেচ্ছাসেবক দেশটির এই চিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একসময় মাথাপিছু আয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হলেও অতিরিক্ত ফসফেট উত্তোলনের ফলে নাউরুর প্রাকৃতিক পরিবেশ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশটি বিদেশি সাহায্যনির্ভর এবং দেশটির জোগান দেওয়া প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ স্থূলতা এবং প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন।
নাউরু ফুটবল ফেডারেশন এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। তারা ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ২ হাজার শিশুর হাতে ফুটবল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যা বিমানে করে ধাপে ধাপে দ্বীপে পৌঁছাবে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী চীনা ইউয়ানমার্কিন ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী চীনা ইউয়ান পমরেয়ের লক্ষ্য হলো, আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে স্থানীয় তরুণদের তৈরি করে একটি জাতীয় দল গঠন করা, যারা ১৮ বছর বয়সে নাউরুর হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে। ২০২৮ সালের মাইক্রোনেশিয়ান গেমসে ফুটবল অন্তর্ভুক্ত থাকায় নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার নতুন স্বপ্ন দেখছে দেশটি। মাঠের অভাব, ইন্টারনেটের সমস্যা এবং অতীত ব্যর্থতার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা অবিশ্বাস থাকলেও ফুটবল নিয়ে এই নতুন উদ্যোগকে ঘিরে নাউরু দ্বীপে এখন নতুন এক আশার সঞ্চার হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি