শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩১শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 15, 2026
July 17, 2026
বিনোদন
বিনোদন

সুরে-নৃত্যে চারুকলায় বর্ষা উদযাপন

Published: July 17, 2026 at 11:55 AM
সুরে-নৃত্যে চারুকলায় বর্ষা উদযাপন

বর্ষার সৌন্দর্য উদযাপনের পাশাপাশি বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানে মুখর ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের বকুলতলা। ‘আবারও ভিজব একসাথে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত নৃত্যানুষ্ঠান ‘ঘনঘটা-২’-এ শিল্পের আবহের সঙ্গে যুক্ত হয় মানবিক উদ্যোগও। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্য শিল্পী ও কোরিওগ্রাফার অর্থি আহমেদের উদ্যোগে এবং চারুকলা অনুষদের সহযোগিতায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। পুরো আয়োজন জুড়ে দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও বন্যার্তদের জন্য অনুদান গ্রহণ করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার অনুষ্ঠানে ১৬টি নৃত্য পরিবেশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বাংলার লোকজ সংস্কৃতিনির্ভর বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন শিশু থেকে প্রবীণ বিভিন্ন বয়সের শিল্পীরা। আয়োজন সম্পর্কে অর্থি আহমেদ বলেন, প্রায় চার মাস আগে থেকেই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। তবে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কারণে কেবল সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বন্যার্তদের জন্য সহায়তা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, শিল্পী হিসেবে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই বর্ষা উদযাপনের পাশাপাশি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরজীবনে বর্ষা এখন অনেকের কাছে জলাবদ্ধতা ও যানজটের প্রতীক হলেও বাংলার সংস্কৃতিতে বর্ষা দীর্ঘদিন ধরে উৎসবের অনুষঙ্গ। সেই ঐতিহ্যকে সামনে এনে মানুষকে মানবিক কাজে সম্পৃক্ত করাই ছিল আয়োজনের উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অর্থি আহমেদ ড্যান্স অ্যাকাডেমির সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবেও বন্যার্তদের জন্য অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ভেন্যুতে জাগো ফাউন্ডেশনের দুটি বুথের মাধ্যমে দর্শনার্থীরাও সহায়তা প্রদান করেন। অর্থি আহমেদ বলেন, তহবিলের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি হবে না, কিন্তু দুর্যোগের সময়ে শিল্পীদের নীরব থাকার সুযোগ নেই। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এই উদ্যোগ। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যেমন শিশু ও প্রথমবার মঞ্চে ওঠা নৃত্যশিল্পীরা ছিলেন, তেমনি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক ও গৃহিণীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও অংশ নেন।