বুধবার ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩১শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৯ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 15, 2026
July 15, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

যৌন নিপীড়নের দায়ে অবশেষে ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলার পরিশোধ করলেন ট্রাম্প

Published: July 15, 2026 at 11:59 AM
যৌন নিপীড়নের দায়ে অবশেষে ক্যারলকে ৫৬ লাখ ডলার পরিশোধ করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে লেখক ও সাবেক কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৫৬ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করেছেন। এই অর্থের মধ্যে জুরির নির্ধারিত ৫০ লাখ ডলার এবং আপিল চলাকালে জমা হওয়া সুদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের রায়ের পর ট্রাম্প ওই অর্থ একটি এসক্রো (আদালত-নিয়ন্ত্রিত) অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে অর্থ ছাড়ের পথ উন্মুক্ত হয়। এরপর বিচারক লুইস এ. ক্যাপলান অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেন এবং সোমবার ক্যারলের কাছে অর্থ হস্তান্তর করা হয়। ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে তিনি জুরির রায় অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছেন।’ অন্যদিকে ক্যারল নিজের সাবস্ট্যাক ব্লগে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ঈগল অবতরণ করেছে।’ তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা মামলাটিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা অর্থ ছাড় ঠেকাতে জরুরি আবেদন করেছিলেন, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দেন। পরে অর্থ প্রদান স্থগিত বা বাতিলের দাবিতে আরও একটি আপিল করা হয়েছে।


বর্তমানে ৮২ বছর বয়সী ই. জিন ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। ২০২২ সালে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওই অভিযোগ অস্বীকার করে পোস্ট দেন। ক্যারলের দাবি, সেই পোস্টের মাধ্যমে তার মানহানি করা হয়েছে। ২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি ট্রাম্পকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানির জন্য দায়ী সাব্যস্ত করে ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। যদিও ট্রাম্প শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।


ট্রাম্পের আইনজীবীদের অভিযোগ, মামলাটি ছিল ‘প্রতারণামূলক’ এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তারা আরও দাবি করেন, বিচারক এমন কিছু প্রমাণ গ্রহণ করেছিলেন, যা জুরিদের ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেছে। তবে ফেডারেল আপিল আদালত রায় বহাল রাখেন এবং পরে সুপ্রিম কোর্টও মামলাটি পুনর্বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এদিকে ২০২৪ সালে আরেকটি পৃথক মানহানি মামলায় ক্যারলের পক্ষে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তার বিরুদ্ধেও ট্রাম্পের আপিল খারিজ হয়েছে। সেই মামলার আইনি প্রক্রিয়াও এখনও পুরোপুরি শেষ হয়ন।