শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 10, 2026
July 10, 2026
বিনোদন
বিনোদন

অভিনেতা রাজপাল যাদবের ৩ মাসের কারাদণ্ড

Published: July 10, 2026 at 02:03 PM
অভিনেতা রাজপাল যাদবের ৩ মাসের কারাদণ্ড

চেক বাউন্সের মামলায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিচারপতি স্বর্ণা কান্তা শর্মা এই রায় ঘোষণা করেন। এনডিটিভি এ খবর প্রকাশ করেছে। ৯ কোটি রুপির চেক বাউন্সের ৭টি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। প্রতিটি মামলায় রাজপাল যাদবকে ৩ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। প্রতিটি মামলার বাদী পক্ষকে ১ কোটি ৫ লাখ রুপি করে পরিশোধের নির্দেশ দেন। 


বাদীপক্ষকে মোট ১ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার রুপি, রাষ্ট্রকে ২৫ হাজার রুপি দেওয়ারও নির্দেশ রাজপাল যাদবকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজপাল যাদবের স্ত্রী রাধা যাদবকে প্রতিটি মামলার বাদীকে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৩৮০ রুপি করে পরিশোধ করতে বলেছেন আদালত।  ২০১০ সালে রাজপাল যাদব ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমা নির্মাণ করেন। এটি তার নির্মিত প্রথম সিনেমা। এটি নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নেন। মুক্তির পর সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। ফলে ঋণ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর শুরু হয় আইনি লড়াই। 


ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে রাজপালের দেওয়া সাতটি চেক বাউন্স হয়। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজপাল যাদব ও তার স্ত্রী রাধা যাদবকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাদের ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালের শুরুতে একটি সেশনস কোর্টও এই রায় বহাল রাখেন। 


পরবর্তীতে রাজপাল দিল্লি হাইকোর্টে রিভিশন পিটিশন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি চলার পর, ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সাময়িকভাবে তার সাজা স্থগিত করেন। পাশাপাশি জানান, বকেয়া পরিশোধে ‘সৎ ও আন্তরিক’ উদ্যোগ দেখাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সুদ-জরিমানা যোগ হয়ে মোট দেনার অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ৯ কোটি রুপি। 


২০২৫ সালের অক্টোবরে রাজপাল যাদব দুটি ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে ৭৫ লাখ রুপি জমা দেন। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এটি মোট দায়ের তুলনায় খুবই সামান্য। এরপর গত ডিসেম্বরে ৪০ লাখ রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন অভিনেতা। পাশাপাশি জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে বাকি অর্থ শোধ করে দেবেন। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই পূরণ করতে ব্যর্থ হন রাজপাল।  


গত ৪ ফেব্রুয়ারি, রাজপাল যাদবের এক সপ্তাহের সময় চেয়ে করা শেষ মুহূর্তের ‘মার্সি প্লি’ আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাজপাল যাদব বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন; এতে বিচারব্যবস্থার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। ৫ ফেব্রুয়ারি, আদালতে হাজির হয়ে রাজপালের আইনজীবী নতুন করে ২৫ লাখ রুপির চেক এবং নতুন পরিশোধসূচি প্রস্তাব করেন। কিন্তু আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। সেদিন বিকেল ৪টায় রাজপাল যাদব তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করেন; ফলে তার ছয় মাসের সাজা কার্যকর হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান রাজপাল।


গত ২ এপ্রিল উভয় পক্ষের সমঝোতার চেষ্টা সফল না হওয়ায় আদালত রায় মুলতবি রাখেন। শুনানিতে রাজপাল যাদব সমঝোতার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। এ মামলার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থও পরিশোধ করেছেন বলে জানান তিনি। সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর আদালত আজ এই রায় দিলেন।