শনিবার ০৪ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২০শে আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৮ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: July 04, 2026
July 04, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

এক পাশে খামেনি, অন্য পাশে ১৪ মাসের নাতনি জাহরার কফিন

Published: July 04, 2026 at 11:41 AM
এক পাশে খামেনি, অন্য পাশে ১৪ মাসের নাতনি জাহরার কফিন

জানাজা প্রাঙ্গণে আলী খামেনির কফিনের পাশাপাশি তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির মরদেহ। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা আজ রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনটি যখন মূল চত্বরে আনা হয়, তখন তাঁর ওপর রাখা ছিল তাঁর পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কালো পাগড়িটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হন। এই জানাজা প্রাঙ্গণে আলী খামেনির কফিনের পাশাপাশি আরও চারটি কফিন রাখা হয়েছে, যার একটিতে রয়েছে তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির মরদেহ। অন্য কফিনগুলো হলো— তাঁর বড় মেয়ে সৈয়দা বুশরা হোসেইনি খামেনি, মেয়ের জামাই মেসবাহ উল হুদা বাঘেরি এবং তাঁর ছেলে ও বর্তমান সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ আদেলের। সবকটি কফিনই জাতীয় পতাকায় আবৃত ছিল।


ছয় দিনব্যাপী এই দাফন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ শুক্রবার তেহরানে আনা হয়। শনিবার সকালে জনসাধারণের জন্য তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা খুলে দেওয়ার আগে থেকেই শুক্রবার রাত থেকে শত শত সমর্থক সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, আগামী তিন দিনে শুধু তেহরানেই ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন (দেড় থেকে দুই কোটি) মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সকালে ফটক খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিশাল প্রাঙ্গণ শোকাহত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ হয়ে যায়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, উপস্থিত জনতা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল ব্যানার ও পতাকা বহন করছিলেন। এ সময় পুরো প্রাঙ্গণ ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। জানাজায় অংশ নেওয়া ২৭ বছর বয়সী এক শোকাহত যুবক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘আমার প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে এসেছি। এমন দিন দেখতে হবে কখনো ভাবিনি। এই মর্মান্তিক ঘটনার আগে যদি আমি মারা যেতাম!’


শুক্রবার থেকেই ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেছেন। এ সময় দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফকে অত্যন্ত আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত অবস্থায় দেখা যায়। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন আহমদ ওয়াহিদি, যিনি ওই হামলায় তাঁর পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করছেন সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং পবিত্র মার্গারিটা।


দাফনের সময়সূচি: ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রয়াত নেতা আলী খামেনির কফিন সোমবার পর্যন্ত তেহরানে রাখা হবে এবং সেদিন রাজধানীজুড়ে একটি বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে ধর্মীয় নগরী কোমে। বুধবার কফিন নিয়ে যাওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকের পবিত্র শহরগুলোতে। সবশেষে, আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের নিজ শহর মাশহাদে আলী খামেনিকে দাফন করা হবে।