মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: June 30, 2026
June 30, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

তীব্র তাপপ্রবাহে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

Published: June 30, 2026 at 11:20 AM
তীব্র তাপপ্রবাহে বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যত এগিয়ে আসছে, ততই নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল, পাশাপাশি কানাডার কিছু অংশে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, কয়েক দিনের জন্য একটি বিশাল উচ্চচাপ বলয় পুরো এলাকাজুড়ে অবস্থান করবে। এর ফলে গরম ও আর্দ্রতা একসঙ্গে বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোথাও কোথাও অনুভূত তাপমাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। দিনের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা খুব একটা কমবে না। তাই সন্ধ্যার ম্যাচগুলোও গরম থাকবে।  আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ অ্যালান রেপার্ট জানান, সন্ধ্যা বা রাতে গরম কমবে না। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও এর আশপাশের এলাকায় কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে। সেখানে অনুষ্ঠিতব্য নকআউট ম্যাচগুলোও এই তাপপ্রবাহের প্রভাব অনুভব করবে।


এই পরিস্থিতি আবারও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও শারীরিক সক্ষমতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। গত বছর একই দেশে অনুষ্ঠিত ক্লাব পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও তীব্র গরম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তখন খেলোয়াড়দের সংগঠন জানিয়েছিল, এমন আবহাওয়া ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত।এবারের বিশ্বকাপে সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধেই বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের পানিবিরতি রাখা হয়েছে। এই সময়ে খেলোয়াড়েরা পানি পান করার পাশাপাশি কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, এটি খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সমালোচকদের মতে, এতে ম্যাচের স্বাভাবিক গতি কিছুটা ব্যাহত হয়।


তীব্র গরমের সময় খেলোয়াড় ও দর্শকদের সুরক্ষায় আরও কোনো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এদিকে কানাডার টরন্টো শহরে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হওয়ার পর বিশেষ গরম মোকাবিলা পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়েছে। সেখানে ছায়াযুক্ত বিশ্রামস্থল, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। বিশ্বকাপের কয়েকটি মাঠ অবশ্য গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। যেসব স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ করা যায় এবং ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে খেলোয়াড় ও দর্শকেরা তুলনামূলক আরাম পাবেন। কিন্তু খোলা মাঠের শহরগুলোতে স্টেডিয়ামে পৌঁছানো থেকে শুরু করে পুরো সময়টাই কঠিন হয়ে উঠতে পারে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলিনা মিতিনা সমর্থকদের যতটা সম্ভব ছায়ায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, তীব্র ক্লান্তি বা অস্বাভাবিক অসুস্থতা অনুভব করলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। তার মতে, পর্যাপ্ত ছায়া ও সহজে পানি পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচগুলো যখন শুরু হচ্ছে, ঠিক তখনই ফুটবলের পাশাপাশি আরেক প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতির এই তীব্র তাপপ্রবাহ। তাই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের সুস্থ রাখাও এখন আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।