মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৪ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: June 30, 2026
June 30, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে পাকিস্তানের কড়া হুঁশিয়ারি

Published: June 30, 2026 at 11:09 AM
সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে পাকিস্তানের কড়া হুঁশিয়ারি

সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহে বাধা দেওয়ার যে কোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলে ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ ‘হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে ফেলা হবে’। আজ এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এই বক্তব্যের ফলে কয়েক দশকের পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত চুক্তিটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন। এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান তার ন্যায্য পানির অংশ থেকে কাউকে বঞ্চিত করতে দেবে না। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর বরাতে তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী পানির উৎস নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন। দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। অন্য কোনো দেশ যদি পাকিস্তানের পানিপ্রবাহে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে তা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, প্রায় অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির প্রায় ২৫ শতাংশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


মুসাদিক মালিক আরও বলেন, ‘আমরা আগেই জানিয়েছি, কেউ যদি আমাদের প্রাপ্য পানি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। আমরা নিজেদের রক্ষা করব। এটি নতুন কোনো বক্তব্য নয়। অতীতেও আমরা দেখিয়েছি, কেউ যদি আমাদের প্রাপ্য পানির ওপর হাত তোলে, আমরা সেই হাত কেটে ফেলব।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক অঞ্চলে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও আন্তর্জাতিক রীতি অনুসারে উজান থেকে ভাটিতে নদীর পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘উজানের প্রতিটি দেশের কি ভাটির দিকে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার আছে? আমাদের ক্ষেত্রে তো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিও বিদ্যমান। তাহলে পানি আটকে দেওয়ার প্রশ্ন আসে কেন?’ তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, মালিকের এসব বক্তব্য পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তারা স্বাধীনভাবে বক্তব্যগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি আইনগতভাবে এখনও কার্যকর রয়েছে। এটি একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করা সম্ভব নয়। এই চুক্তির আওতায় সিন্ধু নদী ব্যবস্থার পানির ওপর পাকিস্তানের জনগণের অধিকার বহাল রয়েছে।


তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইনও পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে। কারণ আইডব্লিউটি একতরফাভাবে প্রত্যাহার, বাতিল বা সংশোধনের সুযোগ নেই। আতাউল্লাহ তারার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার বলেছেন, ‘পানি আমাদের লাইফলাইন, এটি আমাদের রেডলাইনও।’

এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিলের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের কয়েক সপ্তাহ পর পাকিস্তানের এ প্রতিক্রিয়া আসে। ওই সাক্ষাৎকারে পাটিল বলেছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদব্যবস্থার পানিতে ভারতের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে এবং ভারতের জন্য নির্ধারিত এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।


এদিকে, টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান বর্তমানে ক্রমবর্ধমান পানি সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে সিন্ধ ও বেলুচিস্তান প্রদেশে তীব্র পানির ঘাটতির কারণে কৃষি, জীবিকা ও আঞ্চলিক অর্থনীতি চাপে পড়েছে।  প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পানির স্বল্পতা দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করছে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এ সংকটের জন্য ভারতের পদক্ষেপকে দায়ী করা হলেও, বিভিন্ন বিশ্লেষণে দুর্বল পানি ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পানি বণ্টন ব্যবস্থার সমস্যাকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।