শনিবার ২৭ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৩ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: June 27, 2026
June 27, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ

Published: June 27, 2026 at 06:34 AM
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ

ভেনিজুয়েলায় জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করার অভিযান এখনও চলছে। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দলও ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে। রাজধানী কারাকাসের একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেলে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারের ধীরগতির ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান, বুধবার সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের বহু ভবন ধসে পড়ে। রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শক্তিশালী ভূমিকম্পে সেখানে একের পর এক ভবন ধসে পড়েছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ভেনিজুয়েলার উত্তর উপকূলে শুক্রবার (২৬ জুন) ৪.৯ মাত্রার আরো একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউরোপীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা (ইএমএসসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল উত্তর ভেনিজুয়েলার মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভূমিকম্পের কম্পন মারাকাই ও রাজধানী কারাকাসেও অনুভূত হয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ১৭২ জনের বেশি মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। ভেনিজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি। শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হবে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই সংগঠিত হচ্ছেন। তারা খাদ্য ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংগ্রহের পাশাপাশি জীবিতদের খোঁজে কাজ করছেন। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন। সরকার এক্স (সাবেক টুইটার)সহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ এখন নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন।