আমি অবাক বিস্ময়ে মর্মাহত হয়েছিলাম যে, আমার বিদ্যালয়ের মেয়েরাও মাদক নেয়| এজন্য আমরা দুজন মেয়েকে বহিষ্কারও করেছি| কিন্তু আমার প্রশ্ন, এ অবস্থার জন্য কী কেবল তারাই দায়ী? সমাজ, পরিবেশ তাদের এই পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে| এই পরিবেশ যদি বদলাতে না পারি, সমাজ একদিন ভেঙ্গে পড়বে|
আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন এক শিক্ষক|
প্রথম আলো ট্রাস্ট আয়োজিত মানবন্ধনে সহযোগিতা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভা| মানববন্ধনে সূচনা বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজ¯^ প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন|
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসিব, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শফিউল আজম বন্ধুসভার উপদেষ্টা আজিজুর রহমান, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর, কোল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারী নেত্রী রুমালি হাসদা, কল্পনা মুরমু, সামাজিক সংগঠন সম্প্রীতির সভাপতি নাহিদুল হক, শিক্ষার্থী সুর্মিলা হাসদা| সমাপনি বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সভাপতি মাসরুফা খাতুন| সঞ্চালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি ফারাহ উলফাৎ রহমান|
রুমালি হাসদা বলেন, ‘হামরা ¯^ামী-স্ত্রী মিল্যা জমিতে কাম করি| হামারঘের থ্রি-ফোরে পড়া বেটা-বেটিরা ধান লাগাই, ধান বুনে, তাও হামাদের জুটে না| হামাদের বেশিরভাগ পুরুষ মানুষেরা চুয়ানি খায়ে সব উড়িয়া দেয়| সংসারে অশান্তি করে| ছেলা-পিলাদের লিখাপড়া শিখিয়া মানুষ করতে পারি না| চিকিৎসা পায় না| হামরা মাদকের বড়োই ভুক্তভোগী| হামরা কি নিচে পড়্যাই থাকবো চিরকাল? সরকারের কাছে হামরা এ্যার সমাধান চাই|’
ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আরেক নেত্রী কল্পনা মুরমু বলেন, আমাদের সমাজে মাদকের ছড়াছড়ি| আমাদের সমাজে অশান্তির মূলেই এখন মাদক| এই মাদক নির্মুলে প্রশাসনের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন| এই মাদকব্যবসায়ীরা প্রশাসনের হাতে ধরাও পড়ে, আবার দ্রুত ছাড়াও পায়| সরকারের কাছে অনুরোধ মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক|