গোমস্তাপুরে আবারো ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড

গোমস্তাপুরে আবারো ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে আবারো মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।  বুধবার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুরে ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। তেল মজুত রাখার অপরাধে ওই ফিলিং স্টেশনকে এই অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। এর আগে তিনি গত ২৭ মার্চ একই অপরাধে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন এই ফিলিং স্টেশনকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুরে মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। অথচ স্টোরেজ যাচাই করলে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার পেট্রোল মজুত রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক জাকির মুন্সী। জাকির মুন্সী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। ফিলিং স্টেশনটিতে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে তা আদায় করা হয়। পরে মজুতকৃত জ্বালানি পেট্রোল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে ৭০০ রোগী জনবল সংকটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ

প্রতিদিনই ভর্তি থাকছে ৭০০ রোগী জনবল সংকটে বিপাকে কর্তৃপক্ষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে। এর মধ্যে সন্দেহভাজন হাম, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ অন্যান্য নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতালটির পুরাতন ভবনের প্রধান ফটকের সামনের মেঝেতেও ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে মায়েদের বসে থাকতে দেখা গেছে। পুরাতন ভবনের বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাওয়াই কষ্ট। সবখানেই রোগী ও তাদের স্বজনরা বসে বা শুয়ে আছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় হাম আইসোলেশন কক্ষে দেখা যায়, রোগীদের ভিড় কিছুটা কমেছে। কারণ হিসেবে জানা গেল, তুলনামূলক অবস্থা ভালো শিশু রোগীদের নিচতলায় নতুন হাম আইসোলেশন কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে ৮০ থেকে ৯০ ভাগ সুস্থ হয়ে ওঠা শিশুদের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান হ্যান্ডমাইকে রোগীর স্বজনদের হাম বিষয়ে সচেতন করছেন। ছাড়পত্র পাবার পর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন— হাম থেকে সুস্থ হয়ে গেলেও শরীরের ভেতরে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নিতে হবে। এজন্য শিশুদের ফলমূলসহ পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। বাড়িতে নিয়ে যাবার পর যদি কোনো কারণে শিশুর অবস্থা খারাপ হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে তৃতীয় তলায় মায়েদের অসুস্থ শিশুদের বুকে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ডাক্তার এলে শিশুদের চিকিৎসা করাবেন বলে তারা লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তবে কক্ষটি আগের মতো ভ্যাপসা নেই। কারণ অনেক রোগী নিচতলায় চলে গেছে। সদর উপজেলার ইসলামপুর থেকে আসা এক মা জানান, তার ৮ মাস বয়সী সন্তান নিশানকে বুধবার রাতে হাম সন্দেহভাজন হিসেবে ভর্তি করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুরের আরেক মা জানান, ২ বছর ৫ মাস বয়সী মেয়ে তাহমিনাকে কয়েকদিন আগে ভর্তি করেছেন। হাসপাতালের পুরাতন ভবনে ঢুকতেই দেখা গেল, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু আব্দুল্লাহকে নিয়ে মেঝেতে বসে আছেন উপররাজারামপুরের এক মা। কথা হলো চকআলমপুরের এক মায়ের সঙ্গেও। তিনি জানান, এক বছরের শিশু রায়ান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে গত রবিবার ভর্তি করেন। ওষুধপত্র ঠিকমতো পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, কিছু পাচ্ছেন আবার কিছু কিনতেও হচ্ছে। জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, সন্দেহভাজন শিশু হাম রোগী ভর্তি আছে ৭৩ জন, শ্বাসকষ্টজনিত ১৭ জন এবং ডায়রিয়া রোগী ৮৩ জন। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জ্বরসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে আরো অনেক রোগী ভর্তি আছে। সবমিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী ভর্তি থাকছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে এত রোগীকে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া ৯ জন সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ৪ জন জুনিয়র কনসালটেন্টের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে চক্ষু ও ফিজিক্যাল বিভাগে কনসালটেন্ট প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন— জনবল সংকটের পরও হাম সন্দেহভাজন শিশুদের কথা ভেবে নতুন আরেকটি কক্ষকে হাম আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে চালু করা হয়েছে।

নাচোলে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

নাচোলে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৫ হাজার ৬২০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চফলনশীল বীজ এবং রাসায়নিক সার বিতরণের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিতরণের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. সুলতানা রাজিয়া। এসময় জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিল, পাট ও আউশ ধানের আবাদ বৃদ্ধির লক্ষে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন ফসল ভেদে বিতরণের মাত্রা ছিল— কৃষক প্রতি ৫ কেজি আউশ ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ১০ কেজি এমওপি সার; ১ কেজি পাট বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ৫ কেজি এমওপি সার; ৫ কেজি মুগ ডাল বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ৫ কেজি এমওপি সার; ১ কেজি তিলবীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং ৫ কেজি এমওপি সার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুলতানা রাজিয়া বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে কৃষকরা সঠিক সময়ে উন্নতমানের বীজ ও সার হাতে পাচ্ছেন। বিশেষ করে আউশ এবং গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রণোদনার মূল লক্ষ্য। এয়ার ফ্লো মেশিনের ব্যবহার ও উফশী জাতের আবাদ সম্প্রসারণের মাধ্যমে হেক্টরপ্রতি ফলন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ্ আকরাম, উপজেলা জামায়াতের আমির প্রভাষক ইয়াকুব আলী, নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামসহ কৃষি কর্মকর্তারা। বিতরণ শেষে কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরামর্শ দেয়া হয়। বিনামূল্যে এই কৃষি উপকরণ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা। তারা জানান, সঠিক সময়ে এই সহায়তা পাওয়ায় তারা আবাদি জমি ফেলে না রেখে অর্থকরী ফসল উৎপাদনে অধিক আগ্রহী হবেন।

গোমস্তাপুরে গ্রীষ্মকালীন কৃষি প্রণোদনা পাচ্ছেন ৬ হাজার ২৭০ জন

গোমস্তাপুরে গ্রীষ্মকালীন কৃষি প্রণোদনা পাচ্ছেন ৬ হাজার ২৭০ জন গোমস্তাপুরে গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ উৎপাদনের লক্ষে মুগ, তিল, পাটসহ আউস ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে| আজ সকালে গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে, এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী| চলতি মৌসুমে গোমস্তাপুর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন ও রহনপুর পৌরসভার ৬ হাজার ২৭০ জন প্রান্তিক কৃষককে এই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে| এর মধ্যে উফশী ধানের বীজ ৬ হাজার জন, গ্রীষ্মকালীন মুগ বীজ ১৭০ জন, তিল বীজ ৭০ জন, পাট বীজ ৩০ জন রয়েছে| উপজেলা কৃষি অফিসার সাকলাইন হোসেনের সভাপতিত্বে, এসময় উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পারভেজ হোসেন, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা সেরাজুল ইসলাম, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুল ইসলাম আজম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাকীব উদ্দিন, ইব্রাহীম খলিলসহ অন্যান্যরা| উল্লেখ্য, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে উপকারভোগী ৬ হাজার কৃষক উফশী ধানের জন্য ৫কেজি ধানের বীজসহ ১০ কেজি ডিএফপি ও এমওপি সার, ১৭০ জন মুগ ডালের জন্য ৫ কেজি বীজসহ ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার, ৭০ জন তিল বীজের জন্য ১কেজি করে বীজসহ ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার,৩০ জন পাট বীজের জন্য ১ কেজি করে বীজসহ ৫ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার, কৃষি প্রণোদনা সহায়তা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে|

গোমস্তাপুরে তেল মজুত রাখার অপরাধে ফিলিং স্টেশনকে অর্থদণ্ড

গোমস্তাপুরে তেল মজুত রাখার অপরাধে ফিলিং স্টেশনকে অর্থদণ্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে আবারো মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।  বুধবার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুরে ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। তেল মজুত রাখার অপরাধে ওই ফিলিং স্টেশনকে এই অর্থদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির মুন্সী। এর আগে তিনি গত ২৭ মার্চ একই অপরাধে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন এই ফিলিং স্টেশনকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুরে মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ রয়েছে। অথচ স্টোরেজ যাচাই করলে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার পেট্রোল মজুত রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক জাকির মুন্সী। জাকির মুন্সী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। ফিলিং স্টেশনটিতে ৩ হাজার ২৬৯ লিটার মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ রাখায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে তা আদায় করা হয়। পরে মজুতকৃত জ্বালানি পেট্রোল বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা শুরু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা শুরু চাঁপাইনবাবগঞ্জে দশ দিনের বিসিক উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বুধবার বিকেলে বেলুন উড়িয়ে এই মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। বিসিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদার। সূচনা বক্তব্য দেন— বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। মেলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫ জন উদ্যোক্তা ও জেলার বাইরের আরো ২৫ জনসহ ৫০ জন উদ্যোক্তা ৫০টি স্টলে লোকজ পণ্যসহ নানান ধরনের পণ্য বিক্রয় করছেন। পাশাপাশি এবারের মেলায় শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নাগরদোলা, ডাইনোসর ট্রেন, জাম্পিংসহ বিভিন্ন ধরনের রাইডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আলোচনাকালে জেলা প্রশাসক দেশের উন্নয়নে বিসিক ও উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম নিয়ে ছোট ও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি আম থেকে নানান ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরির পাশাপাশি আমের আঁটি নিয়েও কাজ করার আহ্বান জানান। এর গুণাগুনও তুলে ধরেন তিনি। পরে অতিথিবৃন্দ স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বিসিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় এই মেলার আয়োজন করেছে।

অংশীজনদের ওরিয়েন্টেশন সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একসাথে কাজের আহ্বান

অংশীজনদের ওরিয়েন্টেশন সভায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে একসাথে কাজের আহ্বান বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় অংশীজনদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে| আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদে সভাকক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়| স্ট্রেংদেনিং সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেভিয়ার চেঞ্জ (SSBC) প্রকল্প, World Vision Bangladesh -এর আয়োজনে এবং UNICEF – এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, স্বাস্থ্য ও সমাজকর্মী, যুব প্রতিনিধি এবং শিশু-কিশোররা অংশগ্রহণ করেন| সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক উত্তম মণ্ডল| এছাড়া বক্তব্য দেন মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মেনুয়ার জাহান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইয়াসমিন খাতুন, জেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মুখতার আলী, এবং মানপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম| সভায় বক্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেন— “আমরা সবাই সচেতন, তারপরেও কেন বাল্যবিয়ে হচ্ছে?” আলোচনায় উঠে আসে, আইন সম্পর্কে জানা থাকলেও সামাজিক চাপ, দারিদ্র্য, কুসংস্কার এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এখনও বাল্যবিবাহ বন্ধ হচ্ছে না| জনপ্রতিনিধি মোসা. ইয়াসমিন খাতুন বাল্যবিবাহের কুফল তুলে ধরে বলেন, অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের মোবাইল ব্যবহারে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে| পেশ ইমাম মো. মুখতার আলী ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরোধিতা করেন এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান| বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহের ফলে কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং পরিবার ও সমাজে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়| এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়| প্রকল্প ব্যবস্থাপক উত্তম মণ্ডল চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাল্যবিবাহের হার এখনও বেশি থাকার কারণ বিশ্লেষণ করে তা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান| তিনি বলেন, “প্রতিটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে|” পাশাপাশি তিনি শিশুদের হাম (Measles) টিকা গ্রহণে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন| সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ ও শিশুর প্রতি সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জকে বাল্যবিবাহমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন|

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৭৭ বোতল ভারতীয় নেশার সিরাপ জব্দ, প্রাইভেট কার সহ যুবক গ্রেপ্তার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৭৭ বোতল ভারতীয় নেশার সিরাপ জব্দ, প্রাইভেট কার সহ যুবক গ্রেপ্তার শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ সীমান্তে বিজিবির দুই পৃথক অভিযানে ৫৭৭ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, একটি প্রাইভেট কার জব্দসহ আরাফাত শুভ নামে এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছে| গ্রেপ্তার যুবক নওগাঁর মান্দা থানার প্রসাদপুর শামুকখোল গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে| গতকাল দিবাগত গভীর রাতে গোয়েন্দা তথ্যে অভিযানগুলো চালানো হয়| বিজিবি জানায়, রাত ২টার দিকে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রাম সংলগ্ন একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে গাড়ীর বুট থেকে ২৮ বোতল ভারতীয় এস্কাফ সিরপা পাওয়া গেলে কার আরোহি শুভকে গ্রেপ্তার করা হয়| বিজিবি আরও জানায়, প্রায় এই সময় একই বিওপির অপর একটি টহলদল একই ইউনিয়নের বালিয়াদীঘি গ্রাম সংলগ্ন দীঘির পাড় নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫৪৯ বোতল এস্কাফ ডিএক্স সিরাপ জব্দ করে| এসময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যায়| আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, এসব অভিযানে গ্রেপ্তার যুবক ও জব্দ নেশার সিরাপ শিবগঞ্জ থানায় জমা করা হয়েছে| গত ৩ মাসে ৫৯ বিজিবির আওতাধীণ সীমান্ত হতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বোতল ভারতীয় নেশার সিরাপ সহ ১৩ আসামী গ্রেপ্তার হয়েছে|

জেলার হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৪০ সন্দেহজনক হাম রোগি, হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০৪ রোগি

জেলার হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ৪০ সন্দেহজনক হাম রোগি, হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০৪ রোগি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাম সন্দেহে নতুন করে ৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| জেলা হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, আজ জেলা হাসপাতালে নতুন করে ৩৯ রোগি ভর্তি হয়েছে| বর্তমানে হাসপাতালে রেকর্ড ১০৩ জন সন্দেজনক হাম রোগি| যার বেশিরভাগই শিশু| হাম সন্দেহে প্রচুর রোগি এখনও আসছে| ২২ শয্যার শিশু ওয়ার্ড, ডায়ারিয়া,পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের পর হাসপাতালের চালু না হওয়া ডায়ালাইসিস ইউনিটকে আইসোলেশন ইউনিট করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে| প্রচুর রোগি আসছে| এ অবস্থায় ব্যবস্থা করে আরও একটি আইসোলেশন ইউনিট ১/২ দিনের মধ্যেই চালু করা হবে| অপরদিকে সিভিল সার্জন ডা. এ,কে,এম সাহাবুদ্দীন বলেন, জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ১ জন রোগি ভর্তি হয়েছে| এ নিয়ে পূর্বের ভর্তিসহ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন ১০৪ রোগি চিকিৎসাধীন| জেলার হাম পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ| সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলায় হাম সন্দেহে গত জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত ৭৩০ রোগি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| যার মধ্যে ৭০২ জন শুধুমাত্র জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে| শুধু জেলা হাসপাতালে এখন রেকর্ড ১০২ রোগি ভর্তি রয়েছে| জেলায় সন্দেহজনক হামে আক্রাস্ত ৬ শিশু এখন পর্যন্ত মারা গেছে| মার্চে সকল শিশুর মৃত্যু হয়| এদিকে জেলা সদর,শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে চলছে হামের বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচী| বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত ওই ৩ উপজেলার টার্গেট ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৮৭ জন শিশুর মধ্যে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩১১ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে যা প্রায় ৭৩ শতাংশ| আগামী ২০ এপ্রিল থেকে জেলার বাকী দুই উপজেলা নাচোল ও গোমস্তাপুরে টিকাদান শুরু হবে| এদিকে এ পর্যন্ত জেলা থেকে পাঠানো ১৭৩ জনের নমুণা পরীক্ষা করে ৪৩ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে|

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নানা আয়োজনে বর্ষবরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুন উদ্দীপনায় পথচলার নির্মল আনন্দে বরণ করা হয়েছে বাংলা সন ১৪৩৩কে। পুরাতন গ্লানি মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে নতুর বছরকে নানা আয়োজনে বরণ করেছেন জেলাবাসী। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণিল শোভাযাত্রাটি বের হয়ে জেলাশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নজর কাড়ে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, মাথাল মাথায় ও কাস্তে হাতে কৃষক, মাছ ধরার জাল, কলসি কাঁকে গৃহবধূ, পাল্কি, গরুর গাড়িসহ আবহমান গ্রামবাংলার লোকজ নানা উপকরণ। সেই সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ঢাকঢোল, নানা রকমের প্রতিকৃতি, অংশগ্রহণকারীদের বৈশাখের বাহারি পোশাক আর কুলায় লেখা শুভ নববর্ষ ইত্যাদি। জেলা প্রশাসনের কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর নারী পুরুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে তাদের নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। শোভযাত্রা শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মঞ্চে শুরু হয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে। গাওয়া হয়— ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গানটিসহ বৈশাখী গান। অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি, প্রয়াস ফোক থিয়েটার ইনস্টিটিউট, জাসাস শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠী সংগীত পরিবেশন করে। এছাড়াও মঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত হয় দিন ব্যাপী লোকজ মেলা। জেলা প্রশাসন আয়োজিত অন্যান্য কর্মসূচিও পালন করা হয়। প্রয়াসের শিল্পীদের লাঠি খেলাসহ অন্যান্য উপস্থাপনা দর্শকদের মনজয় করে। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। এ সময় পুলিশ সুপার গৌতম কুমার ঘোষ, জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাকিব হাসান তরফদারসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এনজিওসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে।