রবিবার ০৮ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: November 08, 2026
June 01, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ওয়াশিংটনে রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১১

Published: June 01, 2026 at 10:11 AM
ওয়াশিংটনে রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১১

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি কাগজ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় নিখোঁজ থাকা ৯ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে এই মর্মান্তিক শিল্প দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।  ঘটনার কয়েকদিন পর গত ৩০ মে উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সবকটি মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করতে সক্ষম হন। কাউলিটজ কাউন্টির করোনার অফিস নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে, যাদের বয়স ২৬ থেকে ৫৮ বছরের মধ্যে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন— গিলবার্ট বার্নাল, টাইলার কোভিংটন, ব্র্যাডলি কোভিংটন, রবার্ট রব্ব উইলসন, ডেল মিলার, জ্যারেড অ্যামনস, ব্রেডন ফিঙ্কাস, ক্লিনটন সিজে ডোরান, জন ফোর্সবার্গ, নরম্যান বার্লো এবং ডিলন মিলার। গত মঙ্গলবার (২৬ মে) স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৭টার দিকে লংভিউতে অবস্থিত ‘নিপ্পন ডাইনাওয়েভ প্যাকেজিং কোম্পানি’র কারখানায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহৃত ‘হোয়াইট লিকার’ নামের অত্যন্ত ক্ষারীয় ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক ভর্তি একটি বিশালাকার ট্যাংক আকস্মিকভাবে ফেটে গেলে এই বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে লাখ লাখ গ্যালন রাসায়নিক পুরো কারখানা চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে। 


প্রাথমিক প্রতিবেদনে ১ জনের মৃত্যু এবং রাসায়নিক দগ্ধসহ ৯ জন আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয় এবং ৯ জন কর্মী নিখোঁজ থাকেন। লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিফট পরিবর্তনের সময় অনেক কর্মী যখন একটি ব্রেক রুমে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই এই বিস্ফোরণটি ঘটে। ট্যাংক ফেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় উদ্ধারকারীদের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে সব এলাকায় তল্লাশি চালানো সম্ভব ছিল না। উপচে পড়া ক্ষতিকারক রাসায়নিক যাতে স্থানীয় জনপদের খাবার পানির উৎসে মিশে না যায়, সেজন্য তা অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে এবং উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো রাসায়নিকমুক্ত বা ডিকনট্যামিনেট করতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক ও জটিল প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে। 


শনিবার (৩০ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে লংভিউ ফায়ার ডিপার্টমেন্টের চিফ ব্র্যাড হ্যানিগ শেষ নিখোঁজ কর্মীদের মরদেহ উদ্ধারের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই উদ্ধার প্রক্রিয়া শোকার্ত পরিবারগুলোকে দীর্ঘ নিরাময় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার অন্তত একটি সান্ত্বনা দেবে। এই ঘটনাটিকে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প বিপর্যয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিকের কিছু অংশ কলম্বিয়া নদী এবং কাছাকাছি কিছু নালায় গিয়ে পড়লেও তা জনপদের খাবার পানির ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং বাতাসেও কোনো দূষণ ছড়ায়নি।  উল্লেখ্য, জুস এবং দুধের কার্টন তৈরির জন্য ব্লিচড পেপারবোর্ড প্রস্তুতকারী এই নিপ্পন ডাইনাওয়েভ কারখানায় এর আগেও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো বেশ কিছু রেকর্ড রয়েছে।