সোমবার ০১ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: June 01, 2026
June 01, 2026
বিনোদন
বিনোদন

স্ত্রীর ভয় উপেক্ষা করে ‘সিরিয়াল কিসার’ হয়েছিলেন ইমরান হাশমি

Published: June 01, 2026 at 11:14 AM
স্ত্রীর ভয় উপেক্ষা করে ‘সিরিয়াল কিসার’ হয়েছিলেন ইমরান হাশমি

বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘ একটা সময়জুড়ে ‘সিরিয়াল কিসার’ তকমাটি বয়ে বেড়িয়েছেন। পর্দায় তার এই ইমেজ নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হলেও, এবার জানা গেল এক চমকপ্রদ তথ্য। ইমরান হাশমির এই রোমান্টিক ও সাহসী ইমেজটি আসলে কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না, বরং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে বলিউডে তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি বা জনসংযোগ কৌশল। সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ হাজির হয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেছেন প্রখ্যাত পিআর প্রফেশনাল পারুল গোসাই। তিনি জানান, ইমরান হাশমি নিজে এই ইমেজটি নিয়ে এতটাই বিরক্ত যে তিনি নিজেই এই সত্যটি সবার সামনে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। সেই সময়কার স্মৃতিচারণ করে পারুল বলেন, শুরুতে ইমরানের পিআর বা প্রচারণার প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না। তখন মহেশ ভাট তাকে বলেন যে ইমরানের জন্য একটা জোরদার প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। পারুল লক্ষ করেন যে সংবাদমাধ্যমগুলোতে ইমরানের চুম্বনের দৃশ্য-সংবলিত খবরগুলো পাঠক লুফে নিচ্ছে। তখনই তিনি মহেশ ভাটকে বুদ্ধি দেন, ইমরানের এমন একটা ইমেজ তৈরি করা হোক যাতে মনে হয় তিনি প্রতিটি সিনেমায় সব নায়িকাকেই চুম্বন করেন। মহেশ ভাটও এই আইডিয়াটি লুফে নেন। তবে এই পরিকল্পনার কথা শুনে ইমরান শুরুতে বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন এবং তার স্ত্রী পারভীন রেগে যাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। পরে পারুল নিজে ইমরানের স্ত্রীকে বুঝিয়ে বলেন যে এটি বাস্তব কিছু নয়, কেবলই একটি মার্কেটিং ক্যাম্পেইন। মূলত মহেশ ভাটের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ইমরান এতে রাজি হন এবং এই কৌশলটি ভারতের মফস্বল অঞ্চলের দর্শকদের মাঝে তুমুল জনপ্রিয়তা পায়।


২০০৩ সালে ‘ফুটপাত’ সিনেমার মাধ্যমে ডেবিউ করলেও ২০০৪ সালে ‘মার্ডার’ সিনেমার মাধ্যমে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান ইমরান হাশমি। এই ছবিতে মল্লিকা শেরাওয়াতের সঙ্গে তার অনস্ক্রিন রসায়ন এবং চুম্বন দৃশ্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, যা পরবর্তীতে তাকে ‘সিরিয়াল কিসার’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।  ইমরান নিজেও এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে তারা জেনেশুনে এই ইমেজটিকে ব্যবসার স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। তবে এক দশক পর নতুন প্রজন্মের দর্শকদের রুচির কথা মাথায় রেখে এবং একই চরিত্রে একঘেয়েমি এড়াতে তিনি ‘জান্নাত’, ‘আওয়ারাপন’ ও ‘সাংহাই’-এর মতো সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। ইমরান হাশমি হেসে জানান, ভারতের মতো রক্ষণশীল সমাজে একবার এমন জোরালো ইমেজ তৈরি হয়ে গেলে মানুষ তা সহজে ভোলে না, তাই আজও যেকোনো সংবাদ সম্মেলনে তাকে এই পুরোনো ইমেজ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।