রবিবার ২৪ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১০ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: May 24, 2026
May 24, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

তেহরান-ওয়াশিংটনে দৌড়ঝাঁপ খসড় চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

Published: May 24, 2026 at 11:59 AM
তেহরান-ওয়াশিংটনে দৌড়ঝাঁপ খসড় চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তৈরি হওয়া খসড়া চুক্তিটি এখন একেবারেই শেষ প্রান্তে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার রাতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামানোর এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি ‘খুব শিগগিরই’ ঘোষণা করা হতে পারে এবং বর্তমানে এর ‘চূড়ান্ত দিকগুলো’ নিয়ে আলোচনা চলছে। আরব ও মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দফায় দফায় ফোনালাপের পর ট্রাম্প এই ইতিবাচক বার্তা দিলেন। এই ঘটনাকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় নমনীয় মনোভাব হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ইঙ্গিত করে যে তিনি ইরানের সাথে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। তবে পর্দার পেছনের পরিস্থিতি এখনো বেশ উত্তেজনাকর। হোয়াইট হাউসের আলোচনার বিষয়ে অবগত একজন মার্কিন কর্মকর্তা দেশটির গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, চুক্তিটি প্রায় শেষ হলেও বেশ কয়েকটি পয়েন্টের ‘শব্দচয়ন বা ভাষা’ নিয়ে এখনো কিছুটা দূরত্ব রয়ে গেছে। এর আগে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা বেশ ক’বার চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে মনে করলেও তা ভেস্তে গিয়েছিল। তাই এবারও চূড়ান্ত ঘোষণার আগে একধরনের ‘রিয়েলিটি চেক’ বা বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা চলছে। এই প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো, তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বন্ধ,  ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরিয়ে দেয়, হরমুজ প্রণালী ধাপে ধাপে খুলে দেয়া এবং আগামী অন্তত ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার একটি নতুন দুয়ার উন্মোচন করা। ট্রাম্প চুক্তির দিকে ঝুঁকলেও ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আমেরিকার বেশ কয়েকজন কট্টরপন্থী রিপাবলিকান নেতা ইতিমধ্যেই এই চুক্তির বিরোধিতা করে প্রকাশ্য বিবৃতি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সমঝোতা নিয়ে চরম সন্দিহান। তিনি ট্রাম্পকে চুক্তি না করে ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ‘খুব ভালো’ হয়েছে। ইসরাইলকে একপাশে রেখে ট্রাম্প এই চুক্তির জন্য শনিবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মেগা কনফারেন্স কল করেছেন। সেই কলের বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, অঞ্চলের সব নেতাই ট্রাম্পকে এই চুক্তিতে সই করার জন্য একযোগে চাপ দিয়েছেন। আঞ্চলিক একটি সূত্র উদ্ধৃত করে বলেছে, সব দেশের একটাই জোরালো বার্তা ছিল, ‘পুরো অঞ্চলের মঙ্গলের জন্য দয়া করে এই যুদ্ধটি এবার থামান’। এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সফল করতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো চাচ্ছে, মাত্র এক পৃষ্ঠার এই ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিটি আজ রোববারের মধ্যেই চূড়ান্ত করে ঘোষণা করতে, যাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মূল চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা যায়। পরিস্থিতি এতটাই দ্রুত এগোচ্ছে যে ওহিওতে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ওয়েস্ট পয়েন্টে থাকা প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে জরুরি তলব করে ওয়াশিংটনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ওভাল অফিসের হাই-প্রোফাইল বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য। অথচ শনিবার সকালেই ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ’৫০-৫০’। অর্থাৎ, হয় একটি ভালো চুক্তি হবে, নয়তো ইরানকে ‘একেবারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে’। কিন্তু শনিবার রাতের পর ট্রাম্পের সুর বদলে গেছে এবং চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পুরো কূটনৈতিক জট ছাড়ানোর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছেন পাকিস্তানি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি তেহরানে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক শেষে শনিবারই পাকিস্তান ফিরেছেন। পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার এই আলোচনা থেকেই মূলত এই নতুন খসড়াটি তৈরি হয়েছে, যাকে তারা ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ বলে অভিহিত করেছে। এছাড়া গত এক সপ্তাহে কাতার, সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের যৌথ কূটনৈতিক চাপ দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও নিশ্চিত করেছেন যে, যুদ্ধ শেষ করা, মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের ফ্রিজ হওয়া ফান্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছেন। এর পর আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বিস্তারিত আলোচনা হবে। এখন বিশ্ববাসীর নজর ওয়াশিংটনের দিকে, আজই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সাদা পায়রা ওড়ে নাকি যুদ্ধের দামামা আবার বেজে ওঠে।

তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস