চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতা। আজ বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব। সন্ধ্যা থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। এ সময় মণ্ডপে মণ্ডপে বাজে বিদায়ের সুর। আনন্দঘন উৎসবের পর দেবীকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভক্তরা।
এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৬৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর জেলায় ১৫৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে পাঁচটি। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জে ৫১টি, গোমস্তাপুরে ৩২টি, নাচোলে ১৭টি এবং ভোলাহাটে তিনটি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, জেলায় এবার ১৬৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। প্রতিদিন পূজা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে। উৎসবজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আজ বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে পাঁচ দিনের এ ধর্মীয় আয়োজন।
এদিকে, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলাজুড়ে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি আনসার সদস্য, পুলিশ ও মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করেন। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলও অব্যাহত ছিল।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। এ ছাড়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সার্বক্ষণিক টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। উসকানি, গুজব, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ যেকোনো অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
পাঁচ দিনের উৎসব শেষে দেবী দুর্গার বিদায়ে মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে আসে বিষাদের আবহ। তবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হওয়ায় ভক্তদের প্রত্যাশা—আগামী দিনগুলোতেও সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যান। তাই প্রতিমা বিসর্জনের আগে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে পূজা-অর্চনা ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। কোথাও শোভাযাত্রার মাধ্যমে, আবার কোথাও স্থানীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
বিজয়া দশমীর তাৎপর্য সম্পর্কে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দিয়ে সত্য, সুন্দর ও শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়াই এ উৎসবের মূল শিক্ষা। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার মধ্য দিয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বানও রয়েছে এ উৎসবে।