মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
Printed on: October 20, 2026
October 20, 2026
বিনোদন
বিনোদন

‘অপারেশন সম্পন্ন’, টাইগার শ্রফকে গুলির পর হ্যান্ডলারকে শুটারদের বার্তা

Published: October 20, 2026 at 11:27 AM
‘অপারেশন সম্পন্ন’, টাইগার শ্রফকে গুলির পর হ্যান্ডলারকে শুটারদের বার্তা

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ছক যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ছিল, সে সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেছে মুম্বাই পুলিশ। মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় ফুটবল ম্যাচ খেলে ফেরার পথে এই তারকার গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজস্থানের কোটা থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাচেষ্টার পুরো পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সরাসরি যোগসাজশ।


গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বিহারের বেগমঙ্গরাইয়ের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রৌশন, হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান এবং একই রাজ্যের ১৮ বছর বয়সী ফুল সিং। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার ধারায় মামলা দায়ের করে মুম্বাইয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে অ্যান্টি-এক্সটরশন সেল এই চাঞ্চল্যকর মামলার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।


পুলিশের তদন্তকারী সূত্রের খবর, জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফকে নিশানা করার পর মোটরসাইকেলে চেপে চম্পট দেওয়ার পরপরই শুটাররা তাদের হ্যান্ডলারদের বার্তা পাঠায় যে তাদের ‌‘অপারেশন সম্পন্ন’ হয়েছে। এই আক্রমণের ঠিক আগেই টাইগার শ্রফ মাঠে ফুটবল খেলছেন—এমন একটি ছোট ভিডিও ফুটেজ তুলে শুটাররা তাদের হ্যান্ডলারের কাছে পাঠায়। এরপর দূর থেকে সেই ভিডিও দেখে সবুজ সংকেত মেলার পরেই তারা অতর্কিতে গুলি চালায়। হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর অনিল পণ্ডিত নামের এক হ্যান্ডলার এবং তার সহযোগীরা গণমাধ্যমে খবরের অপেক্ষায় থাকেন। মিডিয়ায় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার দায় স্বীকার করে একটি অডিও বার্তা এবং পোস্ট প্রকাশ করা হয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই অডিও বার্তায় অনিল পণ্ডিত নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছোট ভাইয়ের মতো দাবি করে বলেন, টাইগার শ্রফের ওপর এই হামলার দায় তিনি এবং আরমান সান্ধু গ্রহণ করছেন। অডিওতে তাকে স্পষ্ট হুমকি দিয়ে বলতে শোনা যায়, টাইগারকে আগে সতর্ক করা হয়েছিল কিন্তু তিনি কথা শোনেননি। একই সঙ্গে তিনি পুরো হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পকে সতর্ক করে বলেন যে, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথা না শুনলে কিংবা বলিউড তারকা সালমান খানের সঙ্গে কোনো কাজ করলে বা সম্পর্ক রাখলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের পরিণতি হবে ভয়াবহ।


তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, এই তিন অভিযুক্তকে হামলার অগ্রিম হিসেবে যৌথভাবে মাত্র ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল এবং কাজটি সফলভাবে শেষ করতে পারলে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ ও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে অমৃতসরে এক ব্যবসায়ীকে ভয় দেখানোর জন্য গুলিবর্ষণের একটি ঘটনার সূত্র ধরে হ্যান্ডলার অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে রেহানের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। সেখান থেকেই টাইগার শ্রফকে নিশানা করার ছক সাজানো হয়।


ঘটনাস্থল জুহু থেকে পুলিশ পাঁচটি ব্যবহৃত বুলেটের খোসা এবং দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, হামলার সময় রেহানের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি জ্যাম হয়ে গেলে দুটি তাজা কার্তুজ মাটিতে পড়ে যায়। পুলিশ ইতিমধ্যে খেলার মাঠ ও আশেপাশের এলাকার কয়েক সপ্তাহের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে অভিযুক্তরা বেশ কিছুদিন ধরে টাইগার শ্রফের যাতায়াতের পথ ও দৈনন্দিন চলাফেরার ওপর নজরদারি বা রেকি চালিয়েছিল। এই ঘটনায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আরও কারা জড়িত রয়েছে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে কীভাবে তারা নির্দেশ আদান-প্রদান করত, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।