সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজের ফাইনালে উঠতে হলে আফগানিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি টাইগারদের বড় ব্যবধানে জিততে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাট করলে অন্তত ৪০ রানের ব্যবধানে জয় পেতে হবে। অন্যদিকে পরে ব্যাট করতে নামলে দ্রুত সময়ের মধ্যে জয় তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে তাকিয়ে থাকবে গভীর উৎকণ্ঠা নিয়ে।
গতকাল জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে আফগানরা। এদিন সেদিকুল্লাহ আতাল তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন, আর ইব্রাহিম জাদরান তার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো নব্বইয়ের ঘরে গিয়ে আউট হয়েছেন। পরে বল হাতে রশিদ খান একাই চার উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। এছাড়া ফজল হক ফারুকি ও আল্লাহ গজানফারও দারুণ বোলিং করেছেন।
আফগানিস্তানের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের মধ্যে কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে সিকান্দার রাজাদের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গেছে তারা। সেই ম্যাচে প্রথম তিনটি উইকেটের পতনের পর বাংলাদেশের বোলাররা আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক-থ্রু এনে দিতে পারেননি। ব্যাটাররাও ভালো শুরুর সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। তাসকিন আহমেদ স্বীকার করেছেন, দলের মধ্যে ‘গেম অ্যাওয়ারনেস’ বা খেলার পরিস্থিতি বোঝার সক্ষমতার অভাব ছিল। আর প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেছেন, দলের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হয়তো ভালো পারফরম্যান্স দেখা যেতে পারে, তবে তা কেবল বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে সাময়িকভাবে আড়াল করার মতোই হবে। অন্যদিকে রশিদ খানদের এমন কোনো সমস্যা নেই। তাদের দেখে মনে হয় যেন একটি সুসংগঠিত ও নিখুঁত যন্ত্রের মতো তারা কাজ করছে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইব্রাহিম জাদরান ৯০ রান করেছেন। এর আগে গত বছর এখানেই বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি দুইবার ৯৫ রান করেছিলেন। আগের ম্যাচে তার ফর্ম এবং শট খেলার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, তিনি আরও একটি বড় ইনিংস খেলার জন্য প্রস্তুত। তিনি নিশ্চয়ই চাইবেন, এবার যেন আবুধাবিতে তিনি তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করতে পারেন। বাংলাদেশকে অবশ্যই তাকে থামানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
জাদরানকে থামানোর মতো বোলারদের মধ্যে একজন হলেন শরিফুল ইসলাম। আফগানিস্তানের এই ওপেনারের বিপক্ষে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে তার রেকর্ডই সবচেয়ে ভালো। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৫৫ বলে ছয়বার জাদরানকে আউট করেছেন শরিফুল, যার মধ্যে ওয়ানডেতেই রয়েছে দুইবার। শরিফুল নিজেও এখন বেশ ভালো ফর্মে আছেন; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে তিনি ৪৭ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টে নিয়েছিলেন সাত উইকেট। শরিফুল এখন অনেক বেশি পরিপক্ব হয়ে উঠেছেন।
আবুধাবিতে টস জয়ী দল সম্ভবত আগে ব্যাট করতে চাইবে। এখানে দিন-রাতের ওয়ানডে ম্যাচে গরম ও আর্দ্রতার কারণে দ্বিতীয় ভাগে পিচে কিছুটা গ্রিপ (বল ধরার সুবিধা) পাওয়া যায়। এদিকে আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) ‘মাস্ট-উইন’ ম্যাচে মেহেদী হাসানকে দলে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
মেহেদী সুস্থ হয়ে ফিরলে তিনি দলের জন্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বড় অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন কোচ। জ্বরের কারণে সিকান্দার রাজাদের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। এর আগে নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাস জিম্বাবুয়ের ম্যাচের আগে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে পুরো ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকেই ছিটকে পড়েন।