চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬৪ মন্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসবের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বর্নিল রং-এ প্রতিমা রাঙ্গাতে ব্যস্ত রয়েছেন প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিমার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে দেয়া হচ্ছে তুলির শেষ আঁচড়। মন্ডপ সংশ্লিস্টরা ব্যস্ত রয়েছেন প্যান্ডেল ও তোরন নির্মাণ, সাজসজ্জা,আলোকসজ্জা ইত্যাদি কাজে। জেলা পুজা উদযাপন কমিটি সভাপতি ডাবলু কুমার ঘোষ বলেন, জেলায় এবার ১৬৪টি মন্ডপে পুজার প্রস্তুতি সম্পন্ন প্রায়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬১টি (চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ২৮টি সহ) , শিবগঞ্জে ৫১টি, গোমস্তাপুরে ৩২টি, নাচোলে ১৭টি এবং ভোলাহাট উপজেলায় ৩টি মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে।পুজা উদযাপনে চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে জানিয়ে নির্বিঘ্নে উৎসব শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জি জানান, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে দূর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে ২০২৬ সালের বাঙ্গালী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় এই উৎসব সম্পন্ন হবে। এ’কদিন পুজা-অর্চনা, ঢাক-ঢোল, মন্ত্রপাঠ,শঙ্খধ্বনি সহ ধর্মীয় আনসুঙ্গিকতা পালন করা হবে মন্ডপগুলোতে। ইতিমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের ছোঁয়া লেগেছে। চলছে নতুন পোষাক সহ নানা কেনা-কাটা।
জেলা শহরের হুজরাপুর মহল্লার ঝংকার সংঘের গুঁড়িপাড়া কালী মন্দিরে কর্মরত মৃৎশিল্পী প্রদীপ পাল জানান, এই মন্দিরের কাজ এখনও চলছে। তবে সময়মতই সবকিছু সম্পন্ন হবে। প্রতিমা সাজাতে কোন কমতি রাখা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, পুজায় ৪০০ পুলিশ সদস্য মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যেই পুলিশ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। পুজা নিয়ে কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই জানিয়ে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মন্ডপের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল ও আনসার সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা দিবে এবং এসআরবি টহল জোরদার করবে। সকল মন্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্তের ১০টি মন্ডপে বিজিবি নিরাপত্তা দিবে। এছাড়া ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের চারিদিকের ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা জুড়ে টহল দিবে বিজিবি। জেলার অন্য সীমান্তগুলোর মন্ডপে বিজিবির অন্য দুটি ব্যাটালিয়ন নিরাপত্তা দিবে। ১৬ অক্টোবর থেকে বিজিবি টহল শুরু হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী জানান, শারদীয় দূর্গাপুজা আয়োজনের প্রস্ততি সম্পন্ন প্রায়। সংশ্লিস্ট সকল পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও আলাদা বৈঠক করেছে। পুজা অনুষ্ঠানে সকল মন্ডপে ৬০০ কোিজ করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা শহরে সড়ক ও ড্রেনের নির্মাণ কাজ চলায় সংশ্লিষ্টদের নির্বিঘ্নে উৎসব আয়োজন করতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশণা দেয়া হয়েছে। নির্বিঘ্নে এবারের উৎসব অনুষ্ঠিত হবার আশা করেন জেলা প্রশাসক।