আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিউ মার্কেটের বাজারে সবজি ও মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে আদা, রসুন, চিনি ও চালের দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে বাজারে মাছের সরবরাহ বেশি থাকায় কমেছে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম। অন্যদিকে, ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ফুলকপি ৯০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, ধনেপাতা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, সজনে ডাঁটা ২০০ থেকে ২৪০ টাকা এবং পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শসা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা এবং কচু ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচামরিচ ও টমেটোর দাম বেড়েছে। বর্তমানে কাঁচামরিচ ১২০ টাকা এবং ভালো মানের টমেটো ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজি ব্যবসায়ীদের মতে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লে আগামী দুই মাসের মধ্যে দাম কমতে পারে।
এদিকে, মাছের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতা কম থাকায় বিভিন্ন মাছের দাম কমেছে। বর্তমানে সাধারণ আকারের রুই মাছ ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা, দুই কেজি ওজনের রুই ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা এবং কাতলা মাছ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সিলভার কার্প বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা কেজিতে। বিক্রেতারা জানান, মাছের সরবরাহ বেশি থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।
মুদি পণ্যের বাজারে আদা ও রসুনের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনির দাম কেজিতে এক টাকা বেড়েছে। চালের দামও কেজিতে প্রায় এক টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে পেঁয়াজ, ডিম ও আটার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে, মুরগির বাজারে দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ২০ টাকা। লাল মুরগি ৪০০ টাকা এবং প্যারেন্টস মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি হাঁস ৪৫০ টাকা, রাজহাঁস ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় মুরগির দাম বেড়েছে। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনা তেমন ভালো নয়।
সব মিলিয়ে, এ সপ্তাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিউ মার্কেটের বাজারে সবজি, মুরগি ও কিছু মুদি পণ্যের দাম বাড়লেও মাছের দাম কমেছে। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে মিশ্র পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মো. নয়ন আলী, রেডিও মহানন্দা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।