চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ধান উৎপাদনে আমরা অথ্যাৎ বাংলাদেশ এগিয়ে আছি। কিন্তু বৈশ্বিক মানদণ্ডে আমরা পিছিয়ে আছি। কারণ, অনেক দেশ উৎপাদন ব্যবস্থায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কিন্তু আমরা এখনও সেটা করতে পারছিনা। তিনি বলেন, নতুন প্রযুুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে আমরা পিছিয়ে যাব। নোকিয়া মোবাইল ফোন ও কোডাক ক্যামেরার উদাহরণ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় এরা একচেটিয়া ব্যবসা করেছে কিন্তু পরবর্তীতে তারা আর টিকতে পারেনি।
শুক্রবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ এর আলোচনাকালে তিনি কথাগুলো বলেন।
“উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক জানান, সারাদেশে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং শুধুমাত্র রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য আরো ৩ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ দেবে সরকার। মাত্র ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ দেয়া হবে। এর সুবিধা আপনারা কাজে লাগাতে পারেন।
আলোচনায় অংশ নেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মতিন।
সভায় মাল্টিমিয়ায় মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সাজিদুল ইসলাম।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন, বিসিকের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহা. আব্দুর রহিম, উদ্যোক্তা ব্যবসায়ি শামসুল হক, আস্থা এগ্রো ইন্ডাস্ট্রির রাকিবুল ইসলাম বাবু, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ডালিম, উদ্যোক্তা কবির হোসেন, আকসানা খানমসহ অন্যরা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মিনহাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকরামুল হক নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জুনিয়র মনিটরিং অ্যান্ড রিপোর্টিং স্পেশালিস্ট মো. জহুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও পেশাজীবী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যোক্তা প্রতিনিধিরা।
সভা সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আজমাইন মাহাতাব।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সভায় বিসিকের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলা হয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক প্যাকেজিং এবং ব্যবসা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ এবং বিসিক শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাজিদুল ইসলাম বলেন, বিসিকের ই-মার্কেটের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই পণ্য বিপণনের সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি একটি পণ্যের বাজারসফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে পণ্যের মান, মূল্য, নকশা, ক্রেতার চাহিদা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন ব্যয় ও অপচয় কমানোর পাশাপাশি পণ্যের মান উন্নত করতে সহায়তা করে।
নাচোল:-জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে শিল্প, কৃষি ও সেবাসহ দেশের প্রতিটি খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় পালিত হয়েছে ‘জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে নাচোল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও প্রিয়াংকা দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সুধী জন।এদিকে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, উন্নত কাজের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং গুণগত মান বজায় রেখে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।