চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি নেই, বরং অবনতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৭৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে। এই ১১৫ জনের মধ্যে ৬০ জন পুরুষ ও ৫৫ জন নারী রয়েছেন। আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে বলে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আসছে অক্টোবরে আরো বাড়বে, তবে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই পরিস্থিতি মোকাবিল করতে হতে পারে। তিনি বলেন, যতদিন বৃষ্টি থাকবে ততদিন ডেঙ্গু থাকবে। বৃষ্টি নেই তো ডেঙ্গু নেই।
তিনি আরো জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত নারী রোগীদের নতুন ভবনের ৫ তলায়, শিশু রোগীদের পুরাতন ভবনের ৩ তলায় এবং পুরুষ রোগীদের পুরাতন ভবনের নিচতলায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের প্রতিদিনের প্রতিবেদনে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, গতকাল সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৭৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪১ জন জটিল রোগীকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং ১ জনকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১ জনকে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ২ জনকে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এই ৪৫ জনের মধ্যে ২১ জন পুরুষ ও ২৪ জন নারী রয়েছেন।
অন্যদিকে ৩২ জন সাধারণ রোগীকে জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
একই সময়ে জেলা হাসপাতাল থেকে ৩৮ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে ২ জন, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১ জনসহ মোট ৪১ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।
ফলে বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৫ জনে। এর মধ্যে জেলা হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগী ৯৫ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৭ জন, নারী ৪৪ জন এবং ৮ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়েসহ ১৪ জন শিশু।
এছাড়া শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন পুরুষ ও ১ জন নারী, নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন পুরুষ ও ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন পুরুষ ও ১ জন নারী রোগী ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮১০ জন। আর একই সময়ে জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে একজনের।
এমন অবস্থায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, জেলার সবগুলো পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো ডেঙ্গু নিধন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবু নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না এডিস মশার সংক্রমণ।