ডাইনোসরদের পৃথিবীতে আসারও অনেক আগের কথা। তখন এমন এক ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল, যার শক্তি ছিল হাজার হাজার হাইড্রোজেন বোমার সমান! সম্প্রতি মাটির অনেক গভীরে লুকিয়ে থাকা দীর্ঘদিনের মৃত সেই দানবাকৃতির ‘সুপারভলকানো’ বা অতি-আগ্নেয়গিরির সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিবিসি জানিয়েছে, ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের নিচে চাঞ্চল্যকর এই আবিষ্কারটি হয়েছে। ‘দ্য ওয়াশ’ মোহনা থেকে শুরু করে নরফোক ও লিংকনশায়ারের বিশাল অংশজুড়ে এটি বিস্তৃত। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর আগে এতে ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটেছিল। অর্থাৎ, পৃথিবীতে ডাইনোসর আসারও অন্তত ২০ কোটি বছর আগের ঘটনা এটি, যা ইতালির মাউন্ট এতনার চেয়েও হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী ছিল। কয়েক দশক ধরে নরওয়ে, সুইডেন, পোল্যান্ডসহ বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর পাথরে জমে থাকা প্রাগৈতিহাসিক ছাইয়ের স্তর ‘কিনেকুলে টেফ্রা’-র উৎস খুঁজছিলেন বিজ্ঞানীরা। অবশেষে ‘জিএসএ বুলেটিন’-এ প্রকাশিত ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে (বিজিএস) ও অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় সেই রহস্যের জট খুলেছে। ৮০ বছর আগে মাটির শত শত মিটার নিচ থেকে তোলা পাথরের নমুনা নতুন করে বিশ্লেষণ করে এই সাফল্য পান তারা।
বিজিএস-এর ড. টিম ফারাও এটাকে ইংল্যান্ডের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বদলের ক্ষেত্রে ‘অসাধারণ ফল’ বলেছেন। উল্লেখ্য, যে আগ্নেয়গিরি থেকে এক হাজার ঘনকিলোমিটারের বেশি পদার্থ বের হয়, তাকে সুপারভলকানো বলা হয়। বর্তমানে পৃথিবীতে ইন্দোনেশিয়ার লেক টোবা ও যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোনসহ এমন প্রায় ২০টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে। তবে ভয়ের কিছু নেই। ভূতত্ত্ববিদরা আশ্বস্ত করেছেন, সুপারভলকানোটি কোটি কোটি বছর ধরে সম্পূর্ণ মৃত। এটি এখন কেবলই এক রোমাঞ্চকর অতীত হয়ে নতুন পাথরের স্তরের নিচে নিরাপদে আটকে আছে।