সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 10, 2026
August 10, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

‘মক্কা চুক্তি’ শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ: নিরাপত্তা বিশ্লেষক

Published: August 10, 2026 at 10:09 AM
‘মক্কা চুক্তি’ শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ: নিরাপত্তা বিশ্লেষক

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি এখনও বাস্তব কার্যকারিতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপত্তা নীতি ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুস্তাই। তার মতে, চুক্তিটি আপাতত ‘কাগজে লেখা কালির’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পুস্তাই বলেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলার পরও তুরস্ক বা পাকিস্তানের সেনাদের দেশটিতে মোতায়েন হতে দেখা যায়নি। ফলে চুক্তিটি বাস্তবে কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা দেখিনি যে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার কারণে পাকিস্তানি বা তুর্কি সেনারা সৌদি আরবে গেছে। এর ফলে চুক্তিটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।” সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশকে নতুন করে নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাতেও তুরস্কের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনও সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করেন পুস্তাই। তার ভাষ্য, “উপসাগরীয় দেশগুলো, যার মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলেও আমরা তুরস্কের কোনও প্রতিক্রিয়া দেখিনি।”


পুস্তাইয়ের মতে, কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে সেটি সংকটের মুহূর্তে বাস্তবে কতটা প্রয়োগ করা যায় তার ওপর। শুধু চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকলেই তা কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থায় পরিণত হয় না। তিনি বলেন, তিন দেশের ভূখণ্ডে যদি বাস্তবে কোনও সেনা উপস্থিতি না থাকে, অথবা সৌদি আরব আক্রান্ত হলে সেখানে অবস্থানরত পাকিস্তানি ও তুর্কি সেনারা যদি সরাসরি হামলার শিকার না হন, তাহলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিটি কার্যকরভাবে কাজ করা কঠিন হবে। বিশ্লেষকের মতে, একটি কার্যকর সামরিক জোটের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তব সামরিক সমন্বয়, সেনা মোতায়েন, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা এবং হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। তবে পুস্তাইয়ের মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, চুক্তির রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও এর প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা এখনও পরীক্ষিত হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরব কোনও বড় ধরনের সামরিক হামলার মুখে পড়লে তুরস্ক ও পাকিস্তান কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেটিই হবে এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।