সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৬শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 10, 2026
August 10, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

বিজয়ের ঘোষণা : সবার আগে তামিল

Published: August 10, 2026 at 10:07 AM
বিজয়ের ঘোষণা : সবার আগে তামিল

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপাতি বিজয় ঘোষণা করেছেন, ‘সবার আগে তামিল।’ তিনি জানিয়েছেন, তার সরকার রাজ্যের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। সোমবার তামিলনাড়ু বিধানসভায় এক বক্তৃতায় এ কথা বলেন অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বনে যাওয়া থালাপাতি বিজয়। তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যেখানে সরকারি অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে রাজ্য গান 'তামিল থাই ভাজতু’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো অনুষ্ঠানে সবার আগে জাতীয় গান বন্দে মাতরম গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই বিজয় সরকার রাজ্য গান সবার আগে গাওয়া বাধ্যতামূলক করলো। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নিজেই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, রাজ্যের যেকোনো অনুষ্ঠানে তামিল রাজ্য সঙ্গীতই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে উভয় দলই এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে। স্পিকার জেসিডি প্রভাকর ঘোষণা করেন, প্রস্তাবটি পাস হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের জন্য আর কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই।


প্রস্তাবটি পাশের পর বিধানসভায় দেওয়া এক আবেগঘন বক্তৃতায় বিজয় বলেন, ‘তামিল কেবল একটি ভাষা নয়, এটি আমাদের জীবনরেখা এবং আবেগ।’ মাতৃভাষা মাতৃত্বের মতোই পবিত্র উল্লেখ করে বলেন, ‘তামিল মানে গৌরব, তামিল মানে শক্তি। আপনি যখনই 'তামিল' বলবেন, সমগ্র তামিলনাড়ু একত্রিত হবে এবং এক হয়ে দাঁড়াবে। তামিলনাড়ুতে 'তামিল থাই ভাজতু'-কে অবশ্যই সবার আগে স্থান পেতে হবে। তামিল থাই ভাজতু-কে প্রথম স্থান দেওয়া আমাদের অধিকার।’ প্রস্তাব অনুযায়ী তামিলনাড়ুর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি অফিস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের যে কোনো অনুষ্ঠানের শুরুতে বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্য সঙ্গীতটি গাইতে বা বাজাতে হবে। গত জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারি অনুষ্ঠানে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’, তারপরে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গন মন‘ গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুলাই মাসে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় সরকার রাজ্যগুলোকে সেই নির্দেশ ’কঠোরভাবে মেনে চলার’ অনুরোধ জানায়। ৯ জুলাইয়ের সেই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, ’যখনই জাতীয় গান/জাতীয় সঙ্গীতের সাথে রাজ্যের গান গাওয়া বা বাজানো হবে, তখন জাতীয় গানটি প্রথমে গাওয়া বা বাজানো হবে এবং তারপরে জাতীয় সঙ্গীত বাজবে।’ আজ বিধান সভায় পাশ হওয়া প্রস্তাবে কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ জানানো হলো।


রাজ্য সঙ্গীত গাওয়ার এই বিতর্কটি বিজয়ের সরকারের সমান বয়সী। গত ১০ মে চেন্নাইয়ের  জওহরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সি জোসেফ বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় গান ও জাতীয় সঙ্গীতের পর তামিলনাড়ুর রাজ্য সঙ্গীত বাজানো হয়েছিল। তখন বিরোধী দল, এমনকি বিজয়ের জোট সঙ্গীরাও তার সরকারের সমালোচনা করেছিল। তবে নতুন ক্ষমতা নেয়া টিভিকে দাবি করেছিল, রাজ্য সঙ্গীত তৃতীয় স্থানে বাজানোর সিদ্ধান্তটি সরকারের নয়, শপথ অনুষ্ঠানের প্রটোকল রাজ্যপালের অফিস থেকে নির্ধারণ করা হয়েছিল।


১৯৭০ সালে তামিলনাড়ুতে সরকারি অনুষ্ঠানে 'তামিল থাই ভাজতু' গানটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এরপর থেকেই সরকারি কর্মসূচিতে এটি প্রথমে বাজানোর একটি ঐতিহ্য তৈরি হয়। পরবর্তীতে, ২০২১ সালে এটিকে রাজ্য সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর রাজ্যপালের কার্যালয় তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙ্গেছিল। সোমবার বিধানসভায় সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশের মধ্য দিয়ে সে বিতর্কের আপাত অবসান ঘটলো।