উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা, হিন্দি ও উর্দু গানে মুগ্ধ করে চলেছেন কোটি কোটি সংগীতপ্রেমীকে। দেশ-বিদেশের অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে পারফর্ম করলেও আজ সন্ধ্যায় প্রথমবার গাইতে যাচ্ছেন দেশের সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে।
৬২ বছরের সংগীতজীবনের এই বিশেষ মুহূর্তকে নিজের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন তিনি। একক সংগীত সন্ধ্যা নিয়ে অনুভূতি জানিয়ে রুনা লায়লা বলেন, “৬২ বছরের সংগীত ক্যারিয়ারে কত জায়গায় গাইলাম। দেশ-বিদেশের কত মঞ্চে বাংলা, হিন্দি ও উর্দু গান গেয়ে অসংখ্য স্মৃতি জমিয়েছি। অথচ নিজের দেশের শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে গাইতে আমার ৬২ বছর লেগে গেল! জীবনের এই পর্যায়ে এসে এখানে গান গাইতে পারছি, এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা। এজন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তিনি জানান, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও তাকে একাধিকবার প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
রুনা লায়লা বলেন, “আমাকে দুইবার বয়কট করা হয়েছিল। কিন্তু এতে তো আমার গান গাওয়া থামানো যায়নি। আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ যদি সহায় থাকেন এবং আমার মধ্যে যদি মেধা থাকে, তাহলে কোনো বাধাই আমাকে আটকে রাখতে পারবে না। বাস্তবেও তা পারেনি।”
সংগীতের প্রতি অটুট নিষ্ঠা, আত্মবিশ্বাস এবং অধ্যবসায়ের কথাই যেন তার এই বক্তব্যে নতুন করে প্রতিফলিত হয়েছে। দীর্ঘ ৬২ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দেওয়া রুনা লায়লা এখনো সমানভাবে সক্রিয়। তার এই একক সংগীত সন্ধ্যা ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।