বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৯ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: June 25, 2026
June 25, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি

Published: June 25, 2026 at 08:41 AM
বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি

ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল, মেট্রো ও রেলসেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উদ্ধার তৎপরতায় নামানো হয়েছে সেনাবাহিনীকে। ধ্বংস্তুপ থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী বাহিনী।  মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেল ৬টা ৪ মিনিটে ইয়ারাকুই রাজ্যে প্রথম ৭ দশমিক ২ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ঠিক ৩৯ সেকেন্ড পরেই আঘাত হানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় শক্তিশালী ভূকম্পন।  সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। এছাড়া, পার্বত্য অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধস এবং সমতলে মাটির স্থায়িত্ব নষ্ট হওয়ার (লিকুইফেকশন) মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলছেন, মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির কারণে মাইকেতিয়ায় অবস্থিত সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেট্রো ও রেল চলাচলের পাশাপাশি জরুরি নয় এমন সব কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। রদ্রিগেজ আরও জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফকে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার জেনারেল এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দেবেন।  রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভি-তে এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো জানান, কারাকাস ছাড়াও ত্রুহিলিও, ইয়ারাকুই, কারাবোবোসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশু ও বয়স্কদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকুন। একে অপরের খোঁজ নিন।


কারাকাসের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে লস পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরা অন্যতম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা গেছে, শহরের অসংখ্য বাড়িঘরে বড় ফাটল তৈরি হয়েছে এবং একটি ঐতিহ্যবাহী ব্যাংক ভবনসহ বেশ কিছু বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শত শত কিলোমিটার দূরে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাকে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অনুভূতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসি সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ভেনিজুয়েলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির দিনে। তাই দেশটির মানুষ সিমন বলিভারের ঐতিহাসিক কারাবোবো যুদ্ধের বিজয় উদযাপন করছিলেন। সাধারণ ছুটি থাকায় অধিকাংশ মানুষ সপরিবারে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির বড় কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  এই চরম সংকটে ভেনিজুয়েলার নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। ঘটনার পরপরই ভেনিজুয়েলা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরবর্তী সময়ে তা প্রত্যাহার করা হয়।