তীব্র রাজনৈতিক চাপ ও স্থানীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। আজ ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া এক বক্তব্যে স্টারমার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন স্টারমার। একই সঙ্গে তাঁর উত্তরসূরিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন। স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে, তা হলো—পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি এখনও সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। এ বিষয়ে আমার পার্লামেন্টারি দলের যে মতামত আমি পেয়েছি, তা আমি সম্মানের সঙ্গে ও উদারচিত্তে মেনে নিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে দেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে (এনইসি) সময়সূচি নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান স্টারমার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন পার্লামেন্ট অবকাশ শুরুর আগে, অর্থাৎ ১৬ জুলাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হবে। স্টারমার আশা প্রকাশ করেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্ট অধিবেশন পুনরায় শুরুর আগেই লেবার পার্টি নতুন নেতা পেয়ে যাবে। স্টারমারের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের পথ উন্মুক্ত হলো। একই সঙ্গে দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পাবে যুক্তরাজ্য।